রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রূপসী পাড়ায় হত-দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ- কৃষি বিল নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন বিরোধীরা-বিজেপি নেতা জয় প্রকাশ মজুমদার কালীগঞ্জে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে তপন সাধুর প্রতারণা! কুষ্টিয়ার দাদা রাইস ব্রান্ডের নামে বরিশাল বাজারে যাচ্ছে নিন্মমানের চাল- শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের সকল নদী শাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে- পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক নওগাঁর মান্দায় প্রেমের টানে প্রেমিকের বাড়ীতে প্রেমিকা ভোর ৪টায়- কুমারখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ- জনদুর্ভোগ চরমে কালিয়ার ডুমুরিয়া গ্রামের রাস্তার বেহাল অবস্থা- ফুলবাড়ীতে মহিলাসহ গরু চোর চক্রের তিন সদস্য আটক- কুষ্টিয়ায় বিট পুলিশিং কর্মশালার শুভ উদ্বোধন- কুষ্টিয়া জেলা আ’লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খাঁন একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক-
ঘোষণা:

অপারেশন থিয়েটার থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে কোনো অপারেশন হচ্ছেনা-

নিজস্ব প্রতিনিধি লালমনিরহাট,সময়ের পথঃ-

অত্যাধুনিক ভবন ও সরঞ্জামসহ অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে লালমনিরহাটের চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হচ্ছে না কোনো অপারেশন। ব্যবহার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে নষ্ট হচ্ছে ওটি রুমের মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম।

জানা গেছে, লালমনিরহাট ২-আসনের একাংশ আদিতমারী উপজেলার আটটি ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে গড়ে ওঠে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নবম সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরেই এ হাসপাতালকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়। সেখানে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামসহ অপারেশন থিয়েটার (ওটি) রয়েছে।

৫০ শয্যায় উন্নীত করায় জনবলও বাড়ানো হয়েছে।

তবে তা কাগজ কলমে। বাস্তবে সৃষ্টিলগ্ন থেকে পাঁচটি বিষয়ের জুনিয়র কনসালটেন্ট পদের সবগুলো শুন্য রয়েছে।
ফলে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার দেওয়া হলেও তা ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় তা অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে। রোগীর অপারেশন করতে অবস ও সার্জারি চিকিৎসক আবশ্যক। কিন্তু অবস ও সার্জারি কনসালটেন্ট পদ থাকলেও তা পূরণ হয়নি। সাম্প্রতিক সময় সার্জারির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন একজন মেডিক্যাল অফিসার যোগদান করেছেন। তিনি ছোট ছোট অপারেশনগুলো সম্পন্ন করার ইচ্ছা করলেও কনসালটেন্ট অবস না থাকায় তা হচ্ছে না। ওটি রুমে অবস মেশিন রয়েছে, নেই অবস চিকিৎসক। ফলে জন্ম থেকে তালাবদ্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। ব্যবহার না করায় জরাজীর্ণ হয়ে নষ্ট হচ্ছে ওটি রুমের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম।
.হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্জারি, মেডিসিন, অবস ও গাইনিসহ পাঁচটি বিষয়ের জুনিয়র কনসালটেন্ট পাঁচটি পদের সবগুলো শুন্য। ফলে বাধ্য হয়ে অপারেশনের রোগীকে রেফার্ড করতে হচ্ছে। সরঞ্জামাদিসহ অপারেশন থিয়েটার থাকলেও কনসালটেন্ট সার্জারি ও কনসালটেন্ট অবস না থাকায় ফোঁড়া, হাইড্রোসেল, হার্নিয়ার মত ছোট ছোট অপারেশনের রোগীকে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে কনসালটেন্ট সার্জারির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিক্যাল অফিসার ডা. লুৎফুন নাহার যোগদানের পর থেকে ওটি রুম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু কনসালটেন্ট অবস পদটি শুন্য থাকায় ছোট ছোট অপারেশন করার ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হচ্ছে না। কনসালটেন্ট পদগুলো পূরণের জন্য প্রতি মাসে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হলেও সুফল আসছে না।
উপজেলার গোবর্দ্ধন চর থেকে আসা আব্দুল মজিদ রেগে গিয়ে বাংলানিউজকে বলেন, এ হাসপাতালে ফোঁড়া কাটার অস্ত্র আছে মেশিন আছে, নাই খালি ডাক্তার। এ জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠে (পাঠিয়ে) দিল। এখন ক্লিনিকে গিয়া টাকা দিয়া কাটি নিতে হবে। সরকার তাহলে এত টাকা দিয়া হাসপাতাল বানেয়া কী করিল? যদি ডাক্তার না থাকে। সেখানে হাসপাতাল করি লাভ কী?

এ করুণ চিত্র শুধু আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়। লালমনিরহাটের বাকি ৩টি (পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জ) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কনসালটেন্ট পদ শুন্য থাকায় ওটি রুম ব্যবহার হচ্ছে না। জেলায় সরকারিভাবে শুধুমাত্র সদর হাসপাতালে অপারেশন করা হচ্ছে। বাকি চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি রুম সৃস্টিলগ্ন থেকে তালাবদ্ধ রয়েছে। এসব হাসপাতালে চিকিৎসা বলতে শুধুমাত্র জ্বর, পাতলা পায়খানা আর পুলিশ কেস। আন্তঃবিভাগে পুলিশ কেসের রোগীতে পূর্ণ থাকে। ফলে সেবা নিতে আসা রোগীরা সিজারসহ ছোট বড় সব ধরনের অপারেশনে ক্লিনিকে ছুটছেন। সরকারি চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হওয়ায় বাধ্য হয়ে রোগীরা ক্লিনিক নির্ভর হচ্ছেন। গুনছেন মোটা অংকের টাকা। গরিবরা জমি বিক্রি করে প্রসূতি মায়ের সিজারের বিল পরিশোধ করছেন।

পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা গ্রামের অজিয়ার রহমান বলেন, হাইড্রোসিলের ব্যথায় পাটগ্রাম হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এ হাসপাতালে অপারেশনের চিকিৎসক নেই। তাই তারা অপারেশন করার কথা বলে রেফার্ড করে দিয়েছেন লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে। বাধ্য হয়ে বাহিরে ক্লিনিকে সাত হাজার টাকা খরচ করে অপারেশন করেছি।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বাংলানিউজকে জানান, বিশেষ করে সার্জারি ও অবস কনসালটেন্ট না থাকায় জেলার চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি প্রায় জন্মলগ্ন থেকে বন্ধ রয়েছে। ওটি রুমে সব কিছু দেওয়া আছে। প্রয়োজন শুধু অবস ও সার্জারি কনসালটেন্ট। জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে নিয়মিত চিঠি পাঠানো হলেও কাজে আসছে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন