শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রূপসী পাড়ায় হত-দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ- মোঃ ময়েন উদ্দিন কে ১৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চাই এলাকাবাসী- বিজেপি সরকারের মানুষ মারা কৃষি বিলের প্রতিবাদে লেলিন মূর্তির সামনেথেকে মহা মিছিল করলেন সিপিএম ও কংগ্রেস যৌথভাবে- কেন্দ্র সরকারের কালা আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিক্ষোভ সমাবেশ ধর্মতলায়- ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শুভর অস্বাভাবিক মৃত্যু লালমনিরহাটে শোকের ছায়া- কুষ্টিয়ায় চালকল মালিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়- দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন- জলাশয় থেকে এক ব্যক্তির পচাগলা মৃত দেহ উদ্ধার মালদা জেলার নিমতলা এলাকা থেকে- করোনায় আক্রান্ত হয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেলেন এক পুলিশ কর্মী- কুষ্টিয়ায় চাল আত্মসাতের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান সহ ৪ জন কারাগারে- কুষ্টিয়ায় পপুলার ডায়াগনস্টিক এর বিরুদ্ধে রুগীর সাথে প্রতারণা: থানায় অভিযোগ-
ঘোষণা:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না সুন্দরবনের হরিণ শিকার-

স্টাফ রিপোর্টার হাসিবুর রহমান,সময়ের পথঃ-

বন্য প্রাণী শিকার আইনত দন্ডনীয় হলেও সেই আইন অমান্য করে করোনা পরিস্থিতির সুযোগে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে হরিণ শিকার করছে একটি চক্র। সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রাণীদের মধ্যে মায়াবী চিত্রা হরিণ অন্যতম ও আকর্ষণীয়। বিগত কয়েক বছরে বনবিভাগের নজরদারির কারণে সুন্দরবনের হরিণ শিকার অনেকটা কমে গেলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বনরক্ষীদের টহল ব্যবস্থা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ায় এ সুযোগটাকে ব্যবহার করে বনের অভ্যন্তরে হরিণ নিধন করছে একটি চক্র। জেলেদের ছদ্মবেশে সংরক্ষিত অভয়ারণ্য এলাকায় ঢুকে বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে মাংস বিক্রি করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুন্দরবনসংলগ্ন কয়েকজন গ্রামবাসী জানায়, আগে একসময় সুন্দরবনে অবাধে হরিণ শিকার চলত। বন বিভাগ এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী দলের তৎপরতায় হরিণ শিকার অনেক কমে আসছিল। কিন্তু করোনা পরিস্তিতিতে লকডাউনের সুযোগে কয়েক মাস ধরে চোরা শিকারীদের তৎপরতা বেড়েছে। সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকার করে মাংস এনে লোকালয়ে কেজি দরে বিক্রি করে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের তথ্য মতে, এক বছরে তাদের আওতাধীন এলাকা থেকে ২৩ জন হরিণ শিকারিকে আটক করা হয়। পলাতক রয়েছে ৫৬ জন। এ সময় ১২৯ কেজি হরিণের মাংস, একটি মাথা, দুটি চামড়া, ১৫টি নৌকা, ছয়টি ট্রলার, সাড়ে ৯ হাজার ফুট ফাঁদ, দুই বস্তা নাইলনের রশি, তিন হাজার ফুট জাল এবং ২২টি জীবিত হরিণ উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য গত ১মে পূর্ব সুন্দরবনের ডিমের চরে অভিযান চালিয়ে দুই হরিণ শিকারীকে আটকসহ হরিন শিকারের কাজে ব্যবহৃত ১৫শত ফুট নাইলনের ফাঁদ জব্দ করা হয়। গত ৪ মে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে টিয়ার চর এলাকায় শিকারীদের ফাঁদে আটকা পড়া ২২টি জীবিত হরিণ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। ওই সময় শতাধিক কেজি হরিণের মাংস ও ১হাজার ৯শ ৫০ফুট বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ জব্দ করা হয়। গত ২৩ ও ২৪ এপ্রিল পিরোজপুরে মঠবাড়িয়া উপজেলা থেকে সুন্দরবনে দুটি বার্কিং হরিণ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ২৮ মে বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রাম থেকে আরো একটি বার্কিং হরিণ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই হরিণ সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। গত ১৮ জুন সুন্দরবন সংলগ্ন সোনাতলা গ্রাম থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় হরিনের মাথাসহ ১০কেজি মাংস উদ্ধার করা হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, হরিণ সহ বন্যপ্রানী শিকারের সঙ্গে জড়িত যেসব লোকদের আটক করা হয়েছে তাদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল, শরণখোলা, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, খুলনার দাকোপ, পিরোজপুরের পাথরঘাটা এবং মঠবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অপরাধ প্রবনতা কমানোর লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বন বিভাগের টহল বাড়ানো হয়েছে। শিকারিরা সুন্দরবনে যাতে অবাধে প্রবেশ করতে না পারে এ জন্য বন বিভাগ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন