Thursday, April 4 2020
শিরোনাম
Home / স্বাস্থ্য বিষয়ক / আশুগঞ্জে করোনা আতঙ্কে মানুষ হাট বাজার শুন্য-

আশুগঞ্জে করোনা আতঙ্কে মানুষ হাট বাজার শুন্য-

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হাসান জাবেদ,সময়ের পথঃ-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বাড়ছে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাতদিন মাঠে কাজ করছেন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আশুগঞ্জে করোনার প্রভাবে নিন্ম আয়ের মানুষের জন-জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দুদর্শা আর দুচিন্তা কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা তাদের। আশুগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে করোনা আতঙ্কের কারনে আজ মানুষ হাট বাজার থেকে শুন্য প্রায় খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া সারাদিন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

আশুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের , চায়ের দোকান বন্ধ করে দেয়ায় বেকার জীবন যাপন করছে নিন্ম আয়ের মানুষরা বাইরে বের হলেও তাদের চোখমুখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যাত্রী পাচ্ছেন না অটোরিকশার চালকরা। কাজ না পেয়ে বসে বসে সময় কাটছে দিন-মজুরা।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়
আশুগঞ্জ করোনা ভাইরাস আতঙ্ক দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে সবাই প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। ব্যক্তি নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে আশুগঞ্জ । খুব প্রয়োজন ছাড়া সারাদিন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই।

আশুগঞ্জ বাজারে চা বিক্রেতা মো.জামাল মিয়া বলেন, দুপুরের দিকে প্রতিদিন দোকানে ভিড় থাকে। একদিন ধরে রাস্তায় মানুষ খুব কম। তাই বিক্রিও কমে এসেছে। এই দোকানের আয় থেকে পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। পাশাপাশি দোকান চালানোর জন্য দুটি সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছি। সেখানে একটিতে সপ্তাহে ১ হাজারর ৭শ টাকা ও অপরটিতে মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়।

ব্যাসাহি কবির মিয়া.বলেন এ অবস্থা যদি বেশিদিন চলতে থাকে তাহলে আমাদের তো অনাহারে দিন কাটাতে হবে। সেই চিস্তা করতে করতে আমরা এখন দিশে হারা হয়ে পড়ছি।

কামার পট্টি এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কাউসার জানান, আমাদের নিজেদের কোনো টাকা নেই। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে দোকান করি। ঘরে থাকতে হলে তো দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তখন ঋণের কিস্তি শোধ করবো কীভাবে?

যাত্রাপুর বাজারে চা বিক্রেতা মামুন বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন দোকানে ভিড় থাকে। কয়েকদিন ধরে রাস্তাায় মানুষ খুব কম। তাই বিক্রিও কমে গেছে। এই দোকানের আয় থেকে পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। এখন তো চায়ের দোকানও বন্ধ।

একই বাজারের চায়ের দোকানদার শফিক মিয়া বলেন। পাঁচ সদস্যর পরিবার তার। চা বিক্রির পরই তাদের জীবন ও জীবিকা নির্ভর। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এখন আর তেমন চা বিক্রি হচ্ছে না। কি খেয়ে বাঁচবেন তা নিয়েই তিনি দিশেহারা।

দিনমজুরা জানান, কেউ আমাদের কাজে নিচ্ছে না। আমারা এখন কিভাবে সংসার চালাবো তাই ভেবে পাচ্ছিনা। সরকার থেকে আমাদের যে সকল নির্দেশনা দিয়েছে আমরা তাও পালন করছি। কিন্তু আমরা তো নিম্ন আয়ের মানুষ সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরায় সংসার কিভাবে চালাবো?

সরকার যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের মত কিছু নিম্ন আয়ের মানুষের দিকে কোন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিত তাহলে আমাদের কষ্টটা একটু লাঘব হত।

পরিশেষে তাদের এই দূর্দশা থেকে মুক্তি পেতে একান্ত প্রয়োজনে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ করার আবেদন জানান সর্বস্তরের সাধারন জনগন।

About md sajid

Check Also

শ্রমজীবী মানুষের পাশে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে CTG Boys Club-

রিয়াজ উদ্দিন সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,সময়ের পথ চট্টগ্রামঃ- সারাদেশে চলমান মহামারী করোনায় আজ জনসাধারণ যখন নিজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *