সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রূপসী পাড়ায় হত-দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ- কুষ্টিয়ায় দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করার পরও চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন- কুষ্টিয়া এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ- নওগাঁ রানীনগরে রেলওয়ে জায়গার দোকান ঘর উচ্ছেদে প্রায় ১৬ কোটি টাকার ক্ষতি পথে বসেছে ২৮৪ পরিবার- কুড়িগ্রামে মহিলা পরিষদের নারী ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন- কালিয়ায় বালু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা- দশমীর চিকিৎসায় আবারো আর্থিক সহায়তা দিলেন লৌহ মানব মোহাম্মদ আলী চৌধুরী- ঢাকায় শুভ হত্যার রহস্যের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি কালীগঞ্জে মানববন্ধন- কৃষি বিল নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন বিরোধীরা-বিজেপি নেতা জয় প্রকাশ মজুমদার কালীগঞ্জে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে তপন সাধুর প্রতারণা! কুষ্টিয়ার দাদা রাইস ব্রান্ডের নামে বরিশাল বাজারে যাচ্ছে নিন্মমানের চাল-
ঘোষণা:

কুষ্টিয়া মিরপুর হালসা বাজারে এক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির চেষ্টা-

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি,সময়ের পথঃ-

কুষ্টিয়া মিরপুর থানার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের হালসা বাজারের রেজা ইলেকট্রনিক্স এর স্বত্বাধিকারী ও হালসা গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ইসলাম রেজার বিরুদ্ধে দোকানের ভেতর এক মহিলাকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই শ্লীলতাহানীর বিষয়ে উক্ত এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও গোপনে মোটা টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালী নেতাদেরকে ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। সেইসাথে ভুক্তভোগী ঐ মহিলা পরিবারদেরকে বিভিন্ন রকম ভয়-ভীতি দেখিয়ে এই রেজা বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বীরদর্পে।
জানা যায়, রেজাউল ইসলাম রেজা এভাবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মহিলা কাস্টমারদের সাথে এভাবেই শ্লীলতাহানি করে থাকেন বলে স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান। পরবর্তীতে ঐ সকল প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমে তার অপরাধ প্রতিনিয়ত ধামাচাপা দিয়ে যাচ্ছেন।
সরোজমিনে হালসা বাজারে গিয়ে একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ১২ তারিখ রবিবার দুপুরের দিকে কেনাকাটা করার জন্য একজন মহিলা ক্রেতা রেজার দোকানে ঢুকলে পণ্য দেখানোর নাম করে তার মার্কেটের ভিতরে নির্জন বেডরুমে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ঐ মহিলা ক্রেতাকে কুপ্রস্তাব দেয়, তাতে উক্ত মহিলা রাজী না হলে তাকে শ্রীলতাহানি চেষ্টা করলে মহিলাটি নিজেকে রক্ষা করতে চিৎকার করে গায়ের শক্তি দিয়ে রেজাকে ধাক্কা মেরে দরজা খুলে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং পাশের কসমেটিকসের ব্যবসায়ীকে বিষয়টি অবগত করেন।
মুহূর্তেই বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, খবর পেয়ে দ্রুত আমবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন এবং হালসা ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং ওই মহিলাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে এবং ঘটনার বিবরণ শোনেন। বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম রেজার কাছে জানতে চাইলে, তিনি প্রতিবেদককে বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে চাই না, এ বিষয়ে হালসা ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই মানব বলেন, প্রথমে ওই মহিলা ঘটনার বিষয় স্বীকার করে না, পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললে, আত্মীয়-স্বজনদের মুখে ওই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। তারা আমার কাছে লিখিত সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ দেয়নি। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।
ঘটনার সূত্র ধরে আমবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও হালসা বাজার কমিটির সভাপতি মসিউর রহমান মিলন বলেন, একমাস আগে থেকে রেজার বিরুদ্ধে তার মার্কেটে এই ধরনের একাধিক অপকর্মের খবর বাজারে ব্যবসায়ীরা আমাকে জানায়। তার বিল্ডিংয়ে চারটি লোহার গ্রিলের গেট রয়েছে এর পর রয়েছে বেডরুম আমি মনে করি, পরিকল্পিতভাবে রেজা ওই মহিলাকে তার ঘরে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করলেও সে গায়ের জোরে বেরিয়ে আসে। পরবর্তীতে আমি ও হালসা ক্যাম্প আইসি এএসআই মানব ওই মহিলার সাথে কথা বললে, সে শ্লীলতাহানীর কথা স্বীকার করে এবং রেজার শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে ওই মহিলার স্বামী আমবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নিকট এই ঘটনার বিচার দেয়। সেই বিচারে রেজা উপস্থিত হয় নাই, সে কারণে উক্ত বিচারের সমাধান করতে পারেন নাই ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ব্যাপারে ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুলের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি শ্লীলতাহানীর কথা স্বীকার করেন ও বলেন তার স্বামী আমাদের নিকট অভিযোগ দিয়েছিল, কিন্তু প্রভাবশালী কিছু নেতার কারণে এই বিচার আমরা করতে পারিনি। তিনি বলেন, রেজার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।
জানা জায়, রেজা কুয়েত থেকে দু বছর আগে চার লক্ষ টাকা দিয়ে ওই বিল্ডিং কিনেন সেখানে শুধু মহিলাদের কেনাকাটা ইলেকট্রনিক্স মালামাল বিক্রয় করেন। ওই বিল্ডিং থেকে সকল ভাড়াটিয়াদের বের করে দিয়েছেন।ওই মহিলার স্বামী ও ভাসুরের সাথে কথা বললে তারা জানান, রেজা একজন প্রভাবশালী লোক। আমরা গরীব মানুষ। আমাদের বিচার হয় না। তাই আমরা চুপ করে আছি। রেজা আমাদের মোবাইল ফোনে ফোন করে মাফও চেয়েছেন।
উক্ত ঘটনার ৪ দিন অতিবাহিত হলেও প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যস্থতার বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যাওয়ায় হালসা বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীসহ আশপাশের গ্রামের সকল সচেতন মহলে ক্ষোভের আভাস পাওয়া যায়। অনেকেই বলতে শোনা যায় অর্থের কাছে গরিবের বিচার নিভৃতে কাঁদে। আর অপরাধীরা এভাবেই জিতে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন