সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রূপসী পাড়ায় হত-দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ- কুষ্টিয়ায় দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করার পরও চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন- কুষ্টিয়া এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ- নওগাঁ রানীনগরে রেলওয়ে জায়গার দোকান ঘর উচ্ছেদে প্রায় ১৬ কোটি টাকার ক্ষতি পথে বসেছে ২৮৪ পরিবার- কুড়িগ্রামে মহিলা পরিষদের নারী ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন- কালিয়ায় বালু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা- দশমীর চিকিৎসায় আবারো আর্থিক সহায়তা দিলেন লৌহ মানব মোহাম্মদ আলী চৌধুরী- ঢাকায় শুভ হত্যার রহস্যের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি কালীগঞ্জে মানববন্ধন- কৃষি বিল নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন বিরোধীরা-বিজেপি নেতা জয় প্রকাশ মজুমদার কালীগঞ্জে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে তপন সাধুর প্রতারণা! কুষ্টিয়ার দাদা রাইস ব্রান্ডের নামে বরিশাল বাজারে যাচ্ছে নিন্মমানের চাল-
ঘোষণা:

গণপরিবহনে সেই পুরনো রূপ

নাসির উদ্দিন মজুমদার : বর্ধিত ৬০শতাংশ ভাড়া প্রত্যাহার করে পূর্বে ভাড়ায় মঙ্গলবার থেকে চলছে গণপরিবহন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যসুরক্ষার শর্ত জুড়ে দেয়া হলেও বিধি নিষেধ মানছে না বাসগুলো। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সড়কে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সরজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মিরপুর, গাবতলি, নিউমার্কেট ও উত্তরার বাসগুলোতে সিট অনুযায়ী যাত্রী যাতায়াত করছে। সবার কাছ থেকে আগের ভাড়া নেয়া হচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নেই বাসগুলোতে। আবার মাস্ক পড়তে দেখা যাচ্ছে না বাসের কন্টাকটারদের। নেই হ্যান্ডস্যানিটাইজার।

সকালে অফিসগামী মিরপুরের যাত্রী রাসেল বলেন, যে বেতন তাতে সংসার চলে না। ভাড়া বাড়ানোর ফলে কিছুটা বিপদে পড়ে গেছিলাম। আগের ভাড়া বহাল থাকায় সস্তি পেলাম। তবে বাসে স্বাস্থ্যসুরক্ষা মানা হচ্ছে না। বাস ড্রাইভার ইউসুফ মিয়া বলেন, করোনার এই সময়ে আগের মতো যাত্রী পাওয়া যায় না। তাছাড়া কয়েক মাস আমাদের কোনো কাজ ছিল না। পরিবার নিয়ে সমস্যায় আছি। আগের ভাড়ায় জমার টাকা নিয়েও বিপদে পড়তে হতে পারে। সারাক্ষণ মাস্ক পড়ে থাকলে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তাই মাঝে মাঝে একটু মাস্ক ছাড়া থাকি।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে গণপরিবহনে আগের নির্ধারিত ভাড়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরপর পরই একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এদিকে গত ৩১ মে আন্তঃজেলা বাস পরিষেবাসহ সকল বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মোট আসনের অর্ধেক যাত্রীকে নিয়ে যানবাহন চলানোর শর্ত বেধে দেয়া হয়। তবে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি না মানা, অধিক ভাড়াও নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

কঠোর অবস্থানে ডিএমপি ও বিআরটিএ : সরকার ঘোষিত গণপরিবহনে পূর্বের ভাড়া কার্যকর ও যত সিট তত যাত্রী সহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কার্যকর করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সরজমিনে পরিদর্শন করেন ডিএমপি ও বিআরটিএ এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ এর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার, ডিএমপিএর যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আব্দুর রাজ্জাক, বিপিএম, পিপিএম(সেবা), ট্রাফিক দক্ষিনের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বাসুদেব বণিক, বিআরটিএ এর পরিচালক খন্দকার অলিউর রহমান, ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাইদুল ইসলাম পিপিএম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোবিন্দ চন্দ্র পাল ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাসুদ হোসেনসহ যাত্রাবাড়ি জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার, পরিবহন মালিক- শ্রমিক সমিতির প্রতিনিধিরা। 

এ সময়ে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে যাত্রী সাধারণের কাছে পূর্বের ভাড়া কার্যকরের বাস্তবিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান পরিদর্শক দল। তাদের পরির্দশনকালে যাত্রী সাধারণ পূর্বের ভাড়া কার্যকর হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এরপর পরিদর্শক দল পরিবহন মালিক, চালক, টার্মিনাল শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন এবং সরকার ঘোষিত পূর্বের ভাড়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন থেকে বিরত থাকার মত নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে নির্দেশনা দেন। উল্লেখ্য করোনাকালীন গনপরিবহনে বর্ধিত ভাড়া বন্ধ করে ১লা সেপ্টেম্বর থেকে পূর্বের ভাড়া কার্যকর ও যত সিট তত যাত্রী সহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বিষয়ক এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

গণপরিবহনে সেই পুরনো রূপ :

করোনাকালের আগের ভাড়ায় ফিরেছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গণপরিবহন। তবে এখনও ভাড়া নৈরাজ্য থামেনি। বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি গণপরিবহনও কম দেখা গেছে। ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন চালক ও হেলপারদের বাকবিতণ্ডা হতেও দেখা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, আগের ভাড়ার কথা মনে করিয়ে না দিলে নিজ ইচ্ছায় আগের ভাড়া নিচ্ছে না পরিবহনগুলো। আর এসব কারণেই বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হতে দেখা গেছে।

ফকিরাপুল এলাকায় দেখা গেছে, প্রতিটি আসনেই যাত্রী বসিয়ে বাস চালানো হচ্ছে। কোথাও পুরোপুরিভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে দেখা যায়নি। যাত্রীদের অধিকাংশের মুখে মাস্কও দেখা যায়নি। নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহারও। শাহবাগ মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি পরিবহনেই সবকটি আসনে যাত্রী রয়েছে। এ সময় মিডওয়ে পরিবহনের একজন যাত্রীজানান, আগের ভাড়ার কথা কন্ডাক্টরদের মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে। তা না হলে তারা করোনাকালের জন্য যে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়, সেই ভাড়াই রেখে দিচ্ছে। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, আমরা সব মালিককে চিঠি দিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছি। কোনও বাসে দাঁড়িয়ে বা বর্ধিত ভাড়া আদায় করা যাবে না। যদি কেউ এমন করে থাকে বা কোনও যাত্রীর কাছ থেকে অভিযোগ আসে সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিবহনের বিরুদ্ধ আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। বিআরটিএ’র উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মাদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, ভাড়া মনিটরিংসহ পরিবহনের অন্যান্য অনিয়ম দেখতে নগরজুড়ে আমাদের বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। তারা এসব বিষয় দেখভাল করছেন। কেউ আইন ভঙ্গ বা সরকারের নির্দেশনা অমান্য করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত ৩১ মে সরকার আন্তঃজেলা বাস পরিষেবাসহ সব বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মোট আসনের অর্ধেক যাত্রীকে নিয়ে যানবাহন চলাচলের শর্ত হিসেবে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেখা যায়, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ভাড়াও নেয়া হচ্ছে বর্ধিত হারে। এজন্য বিভিন্ন সংগঠন থেকে বর্ধিত ভাড়া বাতিলের দাবি ওঠে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন