সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রূপসী পাড়ায় হত-দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ- কুষ্টিয়ায় দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করার পরও চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন- কুষ্টিয়া এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ- নওগাঁ রানীনগরে রেলওয়ে জায়গার দোকান ঘর উচ্ছেদে প্রায় ১৬ কোটি টাকার ক্ষতি পথে বসেছে ২৮৪ পরিবার- কুড়িগ্রামে মহিলা পরিষদের নারী ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন- কালিয়ায় বালু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা- দশমীর চিকিৎসায় আবারো আর্থিক সহায়তা দিলেন লৌহ মানব মোহাম্মদ আলী চৌধুরী- ঢাকায় শুভ হত্যার রহস্যের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি কালীগঞ্জে মানববন্ধন- কৃষি বিল নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন বিরোধীরা-বিজেপি নেতা জয় প্রকাশ মজুমদার কালীগঞ্জে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে তপন সাধুর প্রতারণা! কুষ্টিয়ার দাদা রাইস ব্রান্ডের নামে বরিশাল বাজারে যাচ্ছে নিন্মমানের চাল-
ঘোষণা:

জাতীয় দলের ফুটবলার এখন সিএনজি চালক

জাতীয় দলের ফুটবলার এখন সিএনজি চালক – ছবি: সংগৃহীত

সময়ের পথ স্পোর্টস ডেস্ক : ‘ভাই জীবনে কোনোদিন ভাবিনি সিএনজি চালিয়ে জীবন চালাতে হবে। হওয়ার কথা ছিল অনেক টাকার মালিক। অথচ এখন সংসারের ঘানি টানতে চালাতে হচ্ছে সিএনজি’। দু:খ ভারাক্রান্ত কন্ঠে এক নি:শ্বাসে কথা গুলো বললেন জি এম মামুন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের ফুটবলে যুগান্তকারী এক ঘটনা ঘটে। একই সময়ে দুই জাতীয় দলকে পাঠানো হয় বিদেশে। একটি সৈয়দ নইমুদ্দিনের অধীনে ভারতের নেহেরু কাপে। অন্যটি হাসানুজ্জামান বাবলুর কোচিংয়ে খেলতে যায় মালয়েশিয়ার মারদেকা কাপে। সেই মারদেকা কাপে বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন জি এম মামুন। সে বছরই প্রথম পেশাদার লিগে ঢাকা আবাহনীর, মোহামেডান ও মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে খুলনা আবাহনীর জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধার পাঁচ জনকে কাটিয়ে গোল করার পরই নইমুদ্দিনের নজরে পড়েন তিনি। এরপর ২০১০ সালে সকার ক্লাব ফেনীর অনুশীলনে হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর আর ফিরতে পারেননি ফুটবলে। সেই প্রচণ্ড ধাক্কার পরই আজ মামুন সিএনজি ড্রাইভার। ভাড়ায় চালানো এই বাহন থেকে দিনে যে ৪/৫ শত টাকা পান তা দিয়েই স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে চলছে মামুনের জীবন।

‘আগে আমার টাকায় সংসার চলতো। তিন ভাইয়ের মধ্যে আমিই ছিলাম পরিবারের সবচেয়ে বেশী অর্থ উপার্জনকারী। আমার টাকায় বাবার নামে জায়গা জমি কেনা হতো। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর অন্য দুই ভাই আর আমার পাশে দাঁড়ায়নি। এক ভাই ডাক্তার। অন্যজন থাকে বিদেশে। তারা সামান্য পরিমাণ টাকাও সাহায্য করে না। এই দু:খের কথা কাকে বলবো।’ বলেন মামুন।

২০০৪ সালে প্রথম বিভাগ ফুটবলে ওয়ারীর হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া এই স্ট্রাইকার বলেন, ইনজুরিতে পড়ে খেলা ছাড়ার পর মুদি দোকান দিয়েছিলাম। তাতে তেমন লাভ না হওয়ায় পরে ইজিবাইক কিনে তা চালিয়ে জীবন চলছিল। পরে তা চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন ভাড়ায় সিএনজি (স্থানীয় নাম মহেন্দ্র) চালাই। ফুলতলা থেকে রুপসা রুটে চলে আমার এই বাহন। তথ্য দেন, ২০১১-এর মওসুমের জন্য আমাকে নিতে চেয়েছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। এই ক্লাবে খেললে আরো এগিয়ে যেতে পারতাম। পাল্টে যেত ফুটবল ক্যারিয়ারই।  কিন্তু ইনজুরি সবই শেষ করে দিয়েছে।

দেশে করোনার শুরুর দিকে লকডাউনের প্রবল প্রভাব পড়েছিল খুলনার ফুলতলাতেও। সে সময় সিএনজি চালাতেও পারছিলেন না মামুন। ‘প্রচণ্ড অর্থ কষ্টে পড়ি। তখন খুলনা খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে কিছু চাল ডাল কিনে দেয়া হয় আমাকে।’ জানালেন তিনি। কষ্টের সাথে আরো বলেন, ‘আগে যাদের সাথে বসে আড্ডা দিতাম তারা এখন আমার এই জীবন দেখে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। না চেনার ভান করে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন