Thursday, April 4 2020
শিরোনাম
Home / সংস্কৃতি / দিবসের অন্তরালে অশ্লীলতা, অপসংস্কৃতি বন্ধ হোক –

দিবসের অন্তরালে অশ্লীলতা, অপসংস্কৃতি বন্ধ হোক –

মোঃ সাজিদ হোসেন,নিজস্ব প্রতিবেদক সময়ের পথঃ-

ফেব্রুয়ারি মাস মানেই দিবসের হিড়িক। কত রঙ বেরঙ নামের দিবস দেখা যায় এ মাসে। তবে এ মাসটি আমাদের মহান ভাষার মাস হওয়ার কারনে এদিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। আমাদের মহান শহীদ দিবস ও অান্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এ মাসের ২১ তারিখে উদযাপন করা হয়। এর আগে ব্যতিক্রমী কিছু দিবসও উদযাপন করা হয়। এসব দিবসের অাড়ালে অপসংস্কৃতিতে মেতে থাকে আমাদের সিংহভাগ তরুন প্রজন্ম। ধারাবাহিক ভাবে উপস্থাপন করছি-

প্রথমেই আসি ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে।
এই রোজ ডে তে প্রিয়জনকে একটুখানি ফুলের ছোঁয়া দিতে চায় সবাই। কিন্তু এদিনে পরিবারের প্রিয়জনদের বাদ দিয়ে অসুস্থ সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করে অনেকেই। যা প্রকৃতপক্ষে রোজ ডে এর বিপরীত। ফুলের ছোঁয়ায় পূর্ণতা পাক প্রতিটি আপনজন-প্রিয়জন।

এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি প্রপোজ ডে।
এই দিনটিতে ও অনেকে মেতে থাকে এক বিকৃত সংস্কৃতিতে। প্রস্তাবনার নেপথ্যে কত শত অশ্লীল, অশালীন প্রস্তাবনাও থাকে যা প্রপোজ ডে’র সাথে সত্যিই বেমানান। প্রপোজ ডে হোক সুস্থ আগামীর সম্ভাবনার প্রস্তাবনা, পবিত্র প্রস্তাবনা।

তারপর ৯ ফেব্রুয়ারি চকলেট ডে।
আমাদের তরুন-তরুণীর বেশির ভাগ অংশ এ দিনে মেতে থাকে চকলেট ছোড়াছুড়িতে। কেউ বা এই চকলেট ডে নামে পালন করে অপসংস্কৃতি। পত্রিকার শিরোনামে দেখলাম, “চকলেট ডে’তে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ১০ বছরের শিশুকে গণধর্ষন” পত্রিকার পাতা উল্টালেই এমন অসংখ্য শিরোনাম দেখা যায়। এ যদি হয় চকলেট ডে’র চিত্র তো কোনো দিবসেই আমাদের আগমীর বাংলাদেশরা নিরাপদ নয়। দিবসের আড়ালে এসব অশ্লীল সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি টেডি ডে।
কোথা থেকে যে এসব দিবসের উৎপত্তি হলো আমার মাথায় ধরে না। এই টেডি ডে তে আমাদের তরুন-তরুণীরা টেডিবিয়ার হয়ে যায়, পুতুল বিনিময় করে। আবার এই পুতুল বিনিময়কে অপসংস্কৃতির চর্চা হয়। পুতুলের প্রলোভন দেখিয়ে শিশু ধর্ষন করা হয়। এসব দিবস আমাদের সভ্যতা কে ধ্বংস করছে।

তারপর ১১ ফেব্রুয়ারি প্রমিস ডে অর্থাৎ প্রতিজ্ঞা দিবস।
পকৃতপক্ষে যারা কথায় কথায় প্রতিশ্রুত ভঙ্গ করে তারাই এ দিবসটি যথাযোগ্য অমর্যাদায় উদযাপন করে। প্রমিস ডে তে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞা হোক কোনো অবস্থাতেই প্রতিশ্রুতি ভাঙ্গা যাবে না।

এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি হাগ ডে অর্থাৎ আলিঙ্গন বা কোলাকুলি দিবস।
এ দিবসে আমাদের অধিকাংশ তরুন-তরুণীরা আলিঙ্গনে মশগুল থাকেন। বিকৃত একটি সংস্কৃতিতে মাতোয়ারা থাকে তরুন প্রজম্ম। দিবসের নামে এসব অশ্লীলতা বন্ধ হোক, সুস্থ সংস্কৃতির ধার উন্মোচিত হোক।

তারপর ১৩ ফেব্রুয়ারি কিস ডে অর্থাৎ চুম্বন দিবস।
এ দিবসটি কোন ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বানানো হয়েছে আমার মাথায় ধরছে না। কতটা নির্লজ্জ, কতটা অশ্লীল ভাবে এ দিবসটি আমাদের তারুণ্যরা উদযাপন করে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের তরুন প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে তথাকথিত এসবের দিবসের উদযাপনের মধ্য দিয়ে।

অতঃপর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস।
এই দিনটিতে ভালোবাসার নামে কি হয় কি ঘটে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অশ্লীল, অশালীন, নির্লজ্জ ভাবে আমাদের সিংহ ভাগ তরুন-তরুণী এ দিনটি উদযাপন করে। পত্রিকায় কত রঙ বেরঙের শিরোনামে ধর্ষন, নির্যাতন, অশ্লীলতার খবর ছাপা হয় এই দিবসকে ঘিরে সেটা কারো অজনা নয়। ভালোবাসার নামে এসব অশ্লীলতা, বেহায়াপনা বন্ধ হোক, ভালোবাসা হোক পরিবার, পরিবারের জন্য, মানবতার জন্য, দেশের জন্য, পৃথিবীর জন্য।

এই যে ৭ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটানা এতগুলো দিবস উদযাপন করা হয়, অধিকাংশ উদযাপনকারী এসব দিবসের সঠিক ইতিহাস জানে না, সঠিক তাৎপর্য জানে না। শুধু দিবসের নাম জেনেই মেতে থাকে অপসংস্কৃতিতে। প্রকৃতপক্ষে এসব দিবস উদযাপন পশ্চিমাদের সংস্কৃতি। অথচ আমাদের সোনার দেশের সোনার সন্তানরা না জেনে না বুঝে মেতে উঠছে এসব অপসংস্কৃতি, অশ্লীলতা উদযাপনে। এসবের জন্য মূল্যবান সময়, অর্থ নষ্ট করছে আমাদের আগামীর সম্ভাবনার তারুণ্যরা। আমি সবার এক পাল্লায় পরিমাপ করছি না, ব্যতিক্রমীও আছে, তবে অধিকাংশ তরুন-তরুণী এসব অপসংস্কৃতির সাথে জড়িত। সত্যিকার অর্থে আমি মনে করি ফুলের জন্য, প্রতিশ্রুতির জন্য ভালোবাসার জন্য কোনো দিবসের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনই ভালোবাসা যায়, প্রতিদিনই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যায়, প্রতিদিনই ফুলের ছোঁয়া নেওয়া যায়। আর তাছাড়া আমাদের ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এসব দিবস উদযাপন সম্পূর্ণ নাজায়েজ।

সর্বশেষ ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে কিছু অপসংস্কৃতির কথা বলি-
এ দিনটি বাঙালী জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিবস। আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি স্বরুপ এ দিবসটি উদযাপন করা হয়। এ দিনটি আমাদের জন্য একদিকে অানন্দের অন্যদিকে বেদনাময়। আনন্দের এই জন্য যে, এই দিনে আমাদের বাংলা ভাষা পরিপূর্ণতা লাভ করে। আর বেদনাময় এই জন্য যে, আমরা আমাদের সুর্য সন্তান ভাষা আন্দোলনের বীর সৈনিকদের এদিনেই হারিয়ে ফেলি।
কিন্তু দুঃখের বিষয় যে এই মহৎ একটা দিনেও তথাকথিত কিছু লোক অপসংস্কৃতি লালন করে। বিভিন্ন স্থানে মাইকে, সাউন্ড সিস্টেমে এদিনেও হিন্দি গান বাজতে শোনা যায়, প্রভাতফেরী ও শহীদ মিনারে জুতা পায়ে অংশগ্রহণ দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ঐদিন কে ঘিরে বক্তব্যের মাঝে ফটর ফটর ইংরেজি শব্দ ব্যবহার শোনা যায়, বাংলা ভাষার অপপ্রয়োগ ও বিকৃত উচ্চারণ দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে এগুলো বাংলা ভাষাকে অমর্যাদা, অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমাদের সবার বোধদয় হোক এই কামনা করি। বাংলা ভাষার এমন অমর্যাদা, অবমাননা বন্ধ হোক, দিবসের অন্তরালে এসব অশ্লীলতা, অপসংস্কৃতি বন্ধ হোক। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা হোক প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি স্থানে, সমগ্র বিশ্বে।
এ চর্চা অব্যাহত থাকুক যুগ থেকে যুগান্তরে…

About md sajid

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *