বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রূপসী পাড়ায় হত-দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ- নাটোরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন উপলক্ষে কর্মশালা- চালের দাম বাড়ায় কুষ্টিয়া মিল মালিকদের তলব- কুষ্টিয়া খোকসা উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মবার্ষিকী পালিত- নওগাঁয় ডিবি পুলিশের পৃথক পৃথক অভিযানে মাদকসহ ৭জন মাদক ব্যবসায়ী আটক- কালিয়ায় শেখ হাসিনার জন্মদিন পালিত- কুষ্টিয়ায় জেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন পালিত- প্রাধানমন্ত্রীর ৭৪ তম জম্মদিন উপলক্ষে কুষ্টিয়া খোকসা ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপন – শাহেদ ভদ্রবেশী ধুরন্ধর তাকে ক্ষমা করা যায় না : আদালত চিলমারীতে প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিন পালিত- চিলমারীতে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালন-
ঘোষণা:

পার্বত্য শান্তিচুক্তি অশান্তিই বাড়িয়েছে

মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষারের ফেইসবুক আইডি (Tushar Mujib) থেকে নেয়া ।

 পার্বত্য শান্তিচুক্তি অশান্তিই বাড়িয়েছে

মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষার :
(সাংবাদিক, সংগঠক ও মানবাধিকার কর্মী)

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন ও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে শান্তি চুক্তির নামে ‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ করে । সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তার আজ প্রায়ই ২১ বছর। কিন্তু এতটা বছর পরও ওই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের শেষ হয়নি।
সরকারপক্ষ বলছে, চুক্তির অধিকাংশ ধারাই বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ধারা সরকারের এ মেয়াদেই বাস্তবায়িত হবে। অন্যদিকে, জনসংহতি সমিতির অভিযোগ, সরকার বাস্তবায়নের পরিবর্তে চুক্তি লঙ্ঘন করছে। আর এ সুযোগে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তিন সশস্ত্র সংগঠনের লড়াইয়ে পাহাড় রক্তাক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। চুক্তির পর গত দেড় যুগে অধিক সময়ে বিবদমান তিন গ্রুপের অন্তত প্রায় ১২ শতাধিক অধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়াও একে অপরের বিরুদ্ধে গুম, খুন, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনেরও অভিযোগ করেই চলেছে।
আর তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত বাঙালী অধিবাসীরা বলছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অভিলাষে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর তথাকথিত শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরতদের অর্ধেক বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও তাদের কোন প্রতিনিধি না রেখে বাঙালি স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে চুক্তি সম্পাদিত হয়। হাজারও বাঙালিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত খুনী সন্তু লারমাকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
পাহাড়ী উপজাতি স্বশস্ত্র সস্ত্রাসী কর্তৃক নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার বাঙালিদের প্রকৃত অবস্থা উঠে আসছে না। স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি প্রায় ৩০ (ত্রিশ) হাজারের অধিক বাঙালিকে হত্যা করেছে উপজাতি সন্ত্রাসীরা। হত্যাযজ্ঞের বেশির ভাগ নেতৃত্ব দিয়েছে খুনী সন্তু লারমা যা আজও চলছে। প্রায় দশ হাজার ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় পাঁচ শতাধিক বাঙালি গুলীবিদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। প্রায় পাচঁ হাজার বাঙালিকে নিজ ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে সামান্যটুকুন জমির উপর বাড়ি নির্মাণ করে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ও
ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে অসংখ্য মানুষের হতাহতের ঘটনা পাহাড়ে বাড়িয়ে দিয়েছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থার অভাবে পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতিতে চিড় ধরিয়ে দিয়েছে।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের উপস্থিতিতে সরকারের পক্ষে চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে (জেএসএস সভাপতি) জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শান্তিবাহিনীর ৭৩৯ সদস্যের প্রথম দলটি সন্তু লারমার নেতৃত্বে তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অস্ত্রসমর্পণ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৬ ও ২২ ফেব্রুয়ারি চার দফায় শান্তিবাহিনীর মোট ১৯৪৭ সদস্য অস্ত্রসমর্পণ করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজাতীয় শরণার্থীদের সর্বশেষ দলটি উপেন্দ্র লাল চাকমার নেতৃত্বে মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন। মোট ছয় দফায় ১২ হাজার ৩২২ পরিবারের ৬৩ হাজার ৬৪ শরণার্থী দেশে ফিরে আসেন।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালের ৬ মে স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন সংশোধন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন সংসদে পাস হয়। ওই বছরের ১৫ জুলাই এক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয় এবং খাগড়াছড়ির তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কল্প রঞ্জন চাকমাকে প্রথম পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

১৯৯৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সরকার জনসংহতি সমিতির প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমাকে চেয়ারম্যান করে ২২ সদস্যের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করে। ১৯৯৯ সালের ১২ মে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু লারমা) দায়িত্বভার গ্রহণের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়।
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ের পর ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য শান্তিচুক্তি। পার্বত্যবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি চুক্তির মৌলিক অনেক বিষয়। আর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চুক্তি বাস্তবায়নে অনেকদূ??


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন