সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রূপসী পাড়ায় হত-দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ- কুষ্টিয়ায় দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করার পরও চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন- কুষ্টিয়া এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ- নওগাঁ রানীনগরে রেলওয়ে জায়গার দোকান ঘর উচ্ছেদে প্রায় ১৬ কোটি টাকার ক্ষতি পথে বসেছে ২৮৪ পরিবার- কুড়িগ্রামে মহিলা পরিষদের নারী ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন- কালিয়ায় বালু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা- দশমীর চিকিৎসায় আবারো আর্থিক সহায়তা দিলেন লৌহ মানব মোহাম্মদ আলী চৌধুরী- ঢাকায় শুভ হত্যার রহস্যের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি কালীগঞ্জে মানববন্ধন- কৃষি বিল নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন বিরোধীরা-বিজেপি নেতা জয় প্রকাশ মজুমদার কালীগঞ্জে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে তপন সাধুর প্রতারণা! কুষ্টিয়ার দাদা রাইস ব্রান্ডের নামে বরিশাল বাজারে যাচ্ছে নিন্মমানের চাল-
ঘোষণা:

৩০তম বিসিএস (পুলিশ) এর বর্ষপূর্তিঃ ৯ম বর্ষে পদার্পণ

২০১২ সালের ০৩ জুন, ৩০তম বিসিএস (পুলিশ)

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার, পিওএম-পশ্চিম বিভাগ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা

বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য ও ০৮ (আট) বছরে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বপালনঃ বাংলাদেশ পুলিশ সম্পর্কে উপলদ্ধি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে করোনা মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসনীয় ভূমিকা।

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে বর্তমান সমাজের চিত্রই ফুটে উঠেছে অকুতোভয় সম্মুখযোদ্ধা বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যের পেশাগত দায়িত্ব পালনসহ সামাজিক ও মানবিক সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে। জনতার পাশে বাংলাদেশ পুলিশের এরকম প্রশংসনীয় ভূমিকা ও মানবিক নানামুখী উদ্যোগ সমাজে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জল করেছে। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য শক্তি ও সাহস নিয়ে দেশের এই পরিস্থিতিতে জনসেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

২০১২ সালের ০৩ জুন, ৩০তম বিসিএস (পুলিশ) এর মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করি। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাঙালি পুলিশ সদস্যরা থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে বুকে অসীম সাহস নিয়ে নিজেদের জীবন বাজি রেখে গড়ে তুলেছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ।

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে করোনা মহামারী মোকাবেলায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের প্রত্যেক সদস্য কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই এবং সুরক্ষা সামগ্রীর অপেক্ষা না করে অসীম সাহস বুকে নিয়ে আবারো পেশাগত দায়িত্ব পালন ও মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন নানামুখি মানবিক ও সামাজিক সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে। বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে এই সম্মুখযোদ্ধাদের একজন হতে পেরে আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করছি। বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে ৯ম বর্ষে পদার্পন এবং অকুতোভয় সম্মুখযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের পেশাগত, সামাজিক ও মানবিক সকল কার্যক্রমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশ ও মানবতার সেবায় সর্বদা অনন্য ভুমিকা রাখতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহীতে ০১ (এক) বছর মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর হতে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণে প্রাপ্ত জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। সেই সাথে ৩০ বিসিএস বিভিন্ন ক্যাডার বন্ধুদের পারস্পরিক সহযোগিতা, পেশাগত সমন্বয় ও সু-সম্পর্ক কাজে উৎসাহ সৃষ্টি ও বন্ধুত্বের জায়গাটি সুদৃঢ় করেছে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের সুপরামর্শ ও অনুপ্রেরণা দেশ প্রেমে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছে, কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধি করছে। এছাড়াও অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলা ‘‘অংশীদারিত্ব-পেশাদারিত্ব-সমৃদ্ধি’’ ভাবনা নিয়ে ‘‘ত্রিমাত্রিক-৩০ বিসিএস অফিসার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’’এর করোনা মহামারী মোকাবেলা ও সামাজিক সকল কার্যক্রমে ৩০তম বিসিএস বন্ধুদের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা আমাদেরকে উজ্জীবিত করেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র ও জনগণের কাছে আমার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা আমাকে পরিশীলিতভাবে কাজ করবার উৎসাহ যোগিয়েছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার প্রধানসহ বাংলাদেশ পুলিশের যুগোপযোগী পদক্ষেপ ও উৎসাহ সৃষ্টি, বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক ও সৃষ্টিশীল করছে প্রতিনিয়ত। ‘‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’’ যা করোনা মহামারী মোকাবেলায় অকুতোভয় সম্মুখযোদ্ধা পুলিশ সদস্যগণ পেশাগত, মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশ ও জনগণকে নিরাপদ রাখতে নিজেদের জীবন বাজি রেখে জনসেবায় উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখেছেন এবং সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। করোনায় জনতার পাশে পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা ও স্বীকৃতি, বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যের মনোবল বৃদ্ধি করেছে এবং তাদেরকে নতুন উদ্যমে কাজ করবার উৎসাহ সৃষ্টিসহ উজ্জীবিত করছে প্রতিনিয়ত। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা অনুযায়ী সুরক্ষা সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে। এছাড়াও বর্তমান সরকার প্রধান ও আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, ইমপাল্স হাসপাতাল ও বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতাল, আধুনিক ও মানসম্পন্ন আইশোলেসন এবং কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিক করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।

আমি মনেকরি, বর্তমান দেশের এই পরিস্থিতিতে ও বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য টেকসই কর্মউদ্দীপনা কর্মপরিকল্পনা এবং পুলিশ সদস্যদের কর্মক্ষেত্রে টেকসই স্বাস্থ্য ও পারিবারিক নিরাপত্তাসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি সময়ের দাবী রাখে । এছাড়াও জনসচেতনতা এবং সামাজিক নিরাপত্তায় যুগোপযোগী, আধুনিক সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করা-টেকসই উন্নয়নের প্রধান প্রভাবক হতে পারে।

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার,পিওএম-পশ্চিম বিভাগ,ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা ও সভাপতি
ত্রিমাত্রিক-৩০ বিসিএস অফিসার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন