বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রূপসী পাড়ায় হত-দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ- রায়হান হত্যার প্রধান অভিযুক্ত এস আই আকবর গ্রেপ্তার- শারদীয় দুর্গোৎসবে ৪ দিনের ছুটিসহ ১২ দফা দাবি জানান সংবাদ সম্মেলনে- লালমনিরহাটে ভারতীয় গরু আটক করে ছেড়ে দিলেন হাতীবান্ধা থানা পুলিশ- আগামীকাল লালমনিরহাট জেলার ৩টি ইউনিয়ন ও ২ টি ওয়ার্ড উপ-নির্বাচন। মাদারীপুরে ফারিয়ার ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন- সুজানগরে শ্বশুর বাড়িতে এসে জামাই নিহত- শ্রীমা বলিতেন দেশাচার মানতে হয়- মুজিব শতবর্ষ ফুটবল টুর্ণামেন্টের শিরোপা জিতলো ডাঃ কামাল এ খান একাদশ- নড়াইলে শেখ রাসেল স্মৃতি ফুটবল টুন্টামেন্টের ফাইনাল খেলায় ফ্রেন্ডস ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পল্লব রাজিব স্মৃতি ফুটবল একাদশ- বাবা ভক্তদের হদয় পদ্মে সর্বক্ষণ বিচরণ করতেন-
ঘোষণা:

ইউএনওর ওপর হামলা ঘোড়াঘাটের আগে নবাবগঞ্জেও দায়িত্বে ছিলেন একই ওসি!

ডেস্ক রিপোর্টঃ-দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার পাশের উপজেলার নাম নবাবগঞ্জ। ঘোড়াঘাট উপজেলা যে কারণে আজ দেশব্যাপী আলোচনায়, প্রায় একই কারণে ছয় বছর আগে নবাবগঞ্জ উপজেলাও দেশব্যাপী আলোচনায় উঠে আসে। ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম এবং তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের (৬৫) ওপর কয়েক দিন আগে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে। আর নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর হামলা হয় সেখানকার তৎকালীন ইউএনও সৈয়দ ফরহাদ হোসেনের ওপর। তাঁকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়।

এই দুই ঘটনায় একটি ক্ষেত্রের মিল এখন দুই উপজেলায়ই আলোচনা হচ্ছে। সেটি হচ্ছে, ইউএনও সৈয়দ ফরহাদ হোসেনের ওপর হামলার সময় নবাবগঞ্জ থানার ওসি ছিলেন আমিরুল ইসলাম। সে সময় এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। আবার কয়েক দিন আগে ঘোড়াঘাট উপজেলার ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার সময়ও সেই আমিরুল ইসলামই ছিলেন ঘোড়াঘাট থানার ওসি। ঘোড়াঘাটের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও এখন তাঁর হাতে।
জানা যায়, ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর নবাবগঞ্জ উপজেলার ৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী কাম পিয়ন পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে নবাবগঞ্জের ইউএনও এবং দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ-বিরামপুর ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুর) আসনের সংসদ সদস্যের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীদের নিয়োগ না হওয়ায় শুরু থেকেই এই নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। গত বুধবার ওই ৩৯ জন নৈশপ্রহরীর বেতন বিল উপজেলা ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়া হলে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

এরপর তাঁরা ইউএনও অফিসে প্রবেশ করে ইউএনওর কার্যালয়সহ তিনটি অফিসকক্ষ ভাঙচুর ও তছনছ করেন। ওই সময় তাঁরা ইউএনও সৈয়দ ফরহাদ হোসেনকে বেদম প্রহার করেন। ইউএনওকে রক্ষা করতে এসে পাঁচজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ইউএনওকে প্রথমে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে স্থানান্তর করা হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ওই হামলার সময়ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ছিল।

তবে এই দুই ঘটনার সঙ্গে নিজের যোগসূত্রের বিষয়টি স্বীকার করতে রাজি নন ওসি আমিরুল ইসলাম। এমনকি নবাবগঞ্জে ইউএনওর ওপর হামলার সময় তিনি সেখানে ছিলেন—এই তথ্যও স্বীকার করতে চান না।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থনায় গতকাল রবিবার যোগাযোগ করে জানা যায়, ওসি আমিরুল ইসলাম ওই থানায় ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। নবাবগঞ্জ থানার বর্তমান ওসি অশোক কুমার চৌহান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে গতকাল ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠ’র দুই মিনিট ৩০ সেকেন্ড কথা হয়। এ সময় তিনি বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যান।

নবাবগঞ্জে ইউএনওর ওপর হামলার সময় তো আপনি নবাবগঞ্জে ছিলেন-এই প্রশ্নে আমিরুল ইসলাম কয়েকবার বলেন, ‘তখন তো আমি ট্রান্সফার হয়ে চলে আসছি।’

কিন্তু বাস্তবতা হলো ওই ঘটনার পর এক বছরের বেশি সময় তিনি নবাবগঞ্জের ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন