বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ফুলবাড়ীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ নগদ অর্থ প্রদান যশোর উন্নয়ন ও বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদ তাদের ১১ দফা বাস্তবায়, নড়াইলে অনুষ্ঠিত সংবাদ। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মৃত ব্যক্তির নামে চেক নিয়ে ১০ হাজার টাকা নজরানা নিলেন যুবলীগ নেতা কাঞ্চন। মৃত্যুর সাথে লড়াই করে হেরে গেলেন নড়াইলের শাওন। নড়াইলে শিশু পরিবারের আট এতিমকে সংশোধনের জন্য দুই মাসের ছুটি সার্ভেয়ার মান্নানের তেলেছমতি কারবার : টাকা দিলে বাঁকা : না দিলে ফাঁকা রামগড়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত পীর বজলুর রহমান ( বুজু) ফকিরের মৃত্যু । কুষ্টিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান কেরামত আলী বিশ্বাসসহ ১১জনের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির অভিযোগ নড়াইলের কালনা সেতুতে পূরণ হতে চলেছে ১০ জেলাবাসীর স্বপ্ন।
ঘোষণা:

কুষ্টিয়ার ঠিকাদারকে বাইপাস করে দাদাপুর সড়কের পার্শ্বে ড্রেন নির্মাণের নামে ইউডিসি লি:’র পুকুরচুরি-

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি,সময়ের পথঃ-

কুষ্টিয়া পৌরসভার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবাড়িয়া মরা নদী থেকে ত্রিমোহনী পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণের লক্ষে ১২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে যে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উক্ত ড্রেন নির্মাণের কাজটি পেয়েছে ঢাকা-মিরপুরের ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রথমদিকে কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট ঠিকাদার মুকুলের সাথে ৫০% শেয়ারে যৌথ উদ্যোগে কাজটি শুরু করলেও ইউডিসি কন্সট্রাকশন লিঃ এর মালিক কালাম এর সাথে মুকুলের বনিবনা না হওয়ায় মাঝখানে কিছুদিন মুকুল তাদের কাজ থেকে সরে এসেছিলেন।
তার সরে যাওয়ার সুযোগে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কালাম কুষ্টিয়া পৌরসভাকে ম্যানেজ করে তাদের নিজস্ব শ্রমিকদের দিয়ে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডারের নিয়ম নীতি না মেনে তাদের নিজেদের মত করে ড্রেন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে উক্ত ড্রেন নির্মাণ কাজ দেখতে গেলে তার সত্যতা মেলে। ওয়ার্ক অর্ডারে রডের খাচি তৈরির ক্ষেত্রে ৪ ইঞ্চি করে গ্যাপ দিয়ে ঢালাই করার কথা থাকলেও তারা করছেন ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি ফাঁকা করে। উক্ত ঢালাইয়েও রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি যেখানে পাথর, সিলেকশন বালি ও সিমেন্ট এর মিশ্রণ দেওয়ার কথা ৪/১ অনুপাতে কিন্তু তারা ফিলিং বালু ও নিম্নমানের পাথর দিয়ে ৭/১মিশ্রন দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করছেন। ড্রেনের দুপাশে দন্ডায়মান খাচি দাঁড় করানো হয়েছে সেখানেও রডের তৈরি খাচির মধ্যখানে ফাঁক রয়েছে ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত এবং আড়াআড়ি রড দেওয়ার কথা চারটি কিন্তু দিয়েছে দুটি। যা আমরা সরোজমিনে ওয়ার্ক অর্ডার হাতে নিয়ে মেপে দেখেছি।
ড্রেনের তলদেশে কাদা মাটির উপর ইটের রাবিশ ফেলে তার উপরে রডের খাচি দিয়ে ঢালাই দিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ফিলিং বালু রেখে তার উপরে সিলেকশন বালুর প্রলেপ দিয়ে ঢেকে রেখেছে যা হাত ঢুকিয়ে দিয়ে ফিলিং বালির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
উক্ত কাজের বিষয়ে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ম্যানেজার নাদিমের মুঠোফোনে তাদের কাজের প্রতিটা অনিয়মের কথা তুলে ধরলে তিনি বলেন, আমিতো এ বিষয়ে কিছু জানিনা আমি গিয়ে খোঁজ নিয়ে পরে আপনাকে জানাবো বলে তিনি এড়িয়ে যান। ওই সময় এবং বিকেলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নাই।
২০১৬ সালের ২৮ জুলাই মাসে ড্রেনের প্লান পাস হলেও টেন্ডার হয় ২০১৯ সালের ১১ মার্চ তারিখে, উক্ত কাজের টেন্ডার পায় ঢাকার ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ড্রেনের কাজের অনিয়মের বিষয়ে জানতে পাশের
একাধিক জনতার সঙ্গে কথা বললে তারা সকলে এক বাক্যে বলেন, উনারা যেভাবে ড্রেন নির্মাণ করছে তাতে রাস্তা প্রশস্ত হলে দু’দিনের মাথায় ধসে পড়বে, কারণ আমরা স্বচক্ষে দেখেছি ঢালাইয়ের কাজ রডের কাজসহ সামগ্রিক বিষয়। তারা আরো বলেন প্রায়ই আমরা দেখছি অনিয়মের কারণে হঠাৎ হঠাৎ করে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
উক্ত জনগণ আরও জানায়, গতকাল সকাল ১০ ঘটিকার সময় হঠাৎ করে কাজ বন্ধ বন্ধ হয়ে যায়। কি কারণে কাজ বন্ধ হল এ বিষয়ে তাদের আরেকজন কুষ্টিয়ার পার্টনার মুকুলের সাথে কথা বললে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের সাথে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড সঙ্গে প্রথম থেকে ৫০% পার্টনারে ড্রেনের কাজ শুরু করি তখন আমি ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করি পরবর্তীতে আরো ৩৫ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করি। সেইসথে কুষ্টিয়া শহরের সোনালী হার্ডওয়ার, ভাই ভাই ট্রেডিং ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মালামাল বাকিতে ক্রয় করে দিয়েছি। তার কিছুদিন পরই আমার হাটে ব্লক ধরা পড়লে আমি এক মাস ইন্ডিয়াতে ছিলাম হার্টে রিং পরানোর জন্যে। ইন্ডিয়া থেকে ফিরে এসে দেখি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাকে বাদ দিয়ে তারা নিজেরাই অর্থ উত্তোলন করে আমাকে টাকা না দিয়ে মালিক চলে যান এবং ওই সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাউকে টাকা প্রদান করেন না। পরবর্তীতে ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমাকে এবং ঐ সমস্ত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কে দীর্ঘ আট মাস ঘোরাচ্ছেন। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি এবং কুষ্টিয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছি। এছাড়াও বিষয়টি কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক মহলের সকল নেতৃবৃন্দ জানেন এবং সমাধান করার চেষ্টা করলেও তারা এগিয়ে আসেন নাই।
ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমি একাই অভিযোগ দায়ের করি নাই, কুষ্টিয়া শহরের ওই সকল ব্যবসায়ীরাও কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, এটা নিয়ে অনেকবার বসা বসি হলেও তারা কোন সমাধান করেন নাই।
অবশেষে কোন উপায়ান্তর না পেয়ে গতকাল সকালে আমি ও সকল পাওনাদাররা টাকা আদায়ের জন্য এবং আমার অবশিষ্ট ৫০% কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য উক্ত কাজের স্থানে উপস্থিত হলে তারা কাজ ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে জানতে পারি যে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়া শহরে জল্পনা-কল্পনা চলছে।
ঠিকাদার মুকুল তিনি উপরোক্ত বিষয়টি সমাধানের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং স্থানীয় জনগণ ওই দুর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগে জরুরী ভিত্তিতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন