রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কুষ্টিয়া খোকসায় ৫৮ টি মন্দিরে আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খানের শাড়ি বিতরন নড়াইলে অষ্টমী ও কুমারী পূজাঁ অনুষ্ঠিত। নড়াইলে অবসরপ্রাপ্ত হিন্দু কলেজে শিক্ষক হত্যার ঘটনায় কেয়ারটেকার সহ ৪ জনকে আটক কালিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ ও পৌরসভা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময় বিএনপির এখন এতই দন্যদশা যে, তাদের সাথে কেউ মেয়ের বিয়েও দিতে চাচ্ছে নাঃ কুষ্টিয়ায় মাহাবুব উল আলম হানিফ নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এর কমিটি অনুমোদন। লালমনিরহাটে দাদন ব্যবসায়ীর ফাঁদ থেকে বাঁচার আকুতি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের শহিদুলের পরিবারের কাছে জিম্মি কুষ্টিয়া আলামপুর বাজার পাড়ার বাসিন্দারা নড়াইলের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ডিসি-এসপি বেরিয়ে আসছে থলের বেড়াল : সার্ভেয়ার মান্নানের অবৈধ টাকার পাহাড় : দুদকের ভূমিকা নিরব!
ঘোষণা:

কুষ্টিয়ার যৌতুকলোভী নরপশু স্বামীর শারীরিক নির্যাতনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাতরাচ্ছে এক গৃহবধূ-

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি,সময়ের পথঃ-

কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানার মনোহরদিয়া ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা সোহাগী খাতুন (৪০) তার স্বামীর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে হরিনারায়নপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৫ বছর আগে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মাছপাড়া গ্রামের আবেরের ছেলে সেকেনের সঙ্গে সোহাগীর বিয়ে হয়। তাদের বিবাহের পাঁচ বছর পর থেকে শুরু হয় সোহাগীর উপর শারীরিক নির্যাতন, এরই মাঝে তাদের কোলজুড়ে আসে তিনটি সন্তান অনেক কষ্ট করে তাদেরকে মানুষ করেছে এই সোহাগি। কিন্তু বিধাতার নির্মম পরিহাসে আজ তাকে ঘরছাড়া করেছেন তার পাষণ্ড স্বামী সেকেন।
বিষয়টি জানতে পেরে ছুটে যাই সোহাগীর পিতার বাড়িতে, সেখানে গিয়ে দেখা যায় সোহাগী বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে। এ বিষয়ে সোহাগীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমার স্বামী আজ থেকে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আমার উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে শুধু অর্থের জন্য। গত ১০ বছর আগে আমার অনুমতি না নিয়ে তিনি আরেকটি বিবাহ করেন। এত নির্যাতনের পরেও আমি আমার সন্তানাদি নিয়ে দিনের পর দিন স্বামীর ঘর করেছি। গত ১০ বছর আগে আমাকে শারীরিকভাবে প্রচন্ড প্রহার করে সন্তানাদি দিয়ে আমাকে আমার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। মাঝখানে দশটি বছর আমাকে আমার বাপের বাড়ি থাকতে হয়েছে। রাধানগর বাপের বাড়িতে থেকে সেকেন্ড এর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলাম। অবশেষে সেকেন্ড কোন উপায়ান্তর না পেয়ে আমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে আবার পুনরায় আমাকে নিয়ে যায় তার বাড়িতে। আমি সেলাই মেশিনের কাজ জানি সেই সুবাদে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা জমিয়ে ছিলাম, গরু ক্রয় করেছিলাম, তৈরি করেছিলাম ঘরের আসবাবপত্র। উক্ত নগদ অর্থ সহ আসবাবপত্র গরু সহ আমাদেরকে আমাকে নিয়ে যায় ঝাউদিয়া মাছপাড়া তার বাড়িতে।
এরইমধ্যে আমাকে না জানিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবুও আমি মেনে নিয়ে সংসার করতে আগ্রহী হই। তার বাড়িতে ওঠার পর থেকেই নতুন করে এই নরপশু সেকেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী রুবি, ননদ কাজল ও ননদের ছেলে শলক একত্রে আমার ও আমার মেয়ের উপর শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে অবশেষে বাধ্য হয়ে গত ৩ মাস আগে ইবি থানাতে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে ইবি থানার কর্মকর্তা অভিযোগ না নিয়ে ফিরিয়ে দেন এবং সেকেনকে ফোন দিয়ে বলে যে, তোর বউ এসেছে তোর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে তোর বউকে বাড়িতে নিয়ে যা।
সেখানে বিচার না পেয়ে অবশেষে গত ৩ মাস আগে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দায়ের করেও কোন ফলাফল পাইনি। কারণ উক্ত ইউনিয়নের মসজিদের মেম্বারের একান্ত সহচর এই নরপশুর সেকেন তার কথায় উঠাবসা করে সেকেন। সোহাগী আরো বলেন, সেকেন বিভিন্ন মামলার আসামি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি থেকে শুরু করে এমন কোন অভিযোগ নাই তার বিরুদ্ধে যা তিনি করেন না। অন্যদিকে সে একজন মাদকাসক্তি ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। সুষ্ঠু বিচারের আশায় কোর্ট থানা ইউনিয়ন পরিষদ মজিদ মেম্বার থেকে শুরু করে সকলের কাছে ঘুরেছি কিন্তু কেউ কোনো বিচার করে দেন নাই। অবশেষে গত মঙ্গলবার নরপশু সেকেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী রুবি, ননদ কাজল ও ননদের ছেলে শলক একত্রে মিলে আমাকে ও আমার ছোট মেয়েকে বেপরোয়া শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বর্তমানে আমি এখন আমার পিতার বাড়িতে আছি। বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার সময় বলে আরো নগদ এক লক্ষ টাকা নিয়ে আসবি তাহলে তোদেরকে বাড়িতে জায়গা দেবো।
এদিকে তার বিবাহ উপযুক্ত ছোট মেয়ে বলেন, আমার বাবাসহ সকলে মিলে আমার মা ও আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং বলে এক লক্ষ টাকা নিয়ে আসবি তাহলে তোদেরকে ঘরে তুলে নেব। মেয়েটি তেলটুপি হাই স্কুলে লেখাপড়া করছে বলে জানায়।
অন্যদিকে নির্যাতিত সোহাগীর পিতা প্রতিবেদককে বলেন, ২৫ বছর আগে আমার সোহাগী কে বিবাহ দিয়েছিলাম সেকেনের সাথে কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের ঘরে আমি তার দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে পারছিনা। এই পঁচিশ বছরে সেকেনকে দফায় দফায় লাখ লাখ টাকা দিয়েছি কিন্তু এখন আমার দেওয়ার মতো কোন সামর্থ্য নাই আমরা এই সেকেনের কঠোর বিচার চাই।
এ বিষয়ে সেকেনের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর মুঠোফোনে কথা বললে, তিনি দেখা করতে রাজি হননি। অন্যদিকে মজিদ মেম্বারের সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, আমি কাজে ব্যস্ত আছি এই মুহূর্তে দেখা করতে পারবোনা। অপরদিকে ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেরামত আলীর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি সেকেন সম্পর্কে বলেন, সে একজন খারাপ ছেলে সে কারোর কথা শুনতে চায় না। আপনারা পারলে তার বিরুদ্ধে কিছু একটা ব্যবস্থা করেন আমরা তার সঙ্গে পেরে দিচ্ছি না।
সেকেনের স্ত্রী সোহাগী বলেন, সেকেন ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মজিদ মেম্বারের হাতিয়ার হিসাবে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়। মজিদের নেতৃত্বে সেকেন সকল প্রকার অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে যে কারণে তার বিরুদ্ধে কেউই ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না এবং বিচার সালিশ করতে পারছে না। তিনি এটাও বলেন এলাকার গডফাদার মসজিদের নেতৃত্বেই বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন এই সেকেন।
আমি এই সেকেন ও তার পরিবারের সকল সদস্যদের কঠোর শাস্তি কামনা করছি প্রশাসনের কাছে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ইবি থানাতে গত ২৮ তারিখে সেকেনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি বলে জানান। প্রতিবেদনের কাছে বক্তব্য প্রদান করার পর তার শারীরিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোহাগী হরিনারায়নপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রত অবস্থায় আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন