সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কুষ্টিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ সেমিনারে এমপি হানিফ ফুলবাড়ীতে করোনা নমুনা সংগ্রহের বুথ ভেঙ্গে চুরমার তদন্ত কমিটি গঠন। দেড়শ বছরেরও বেশী সময় ধরে এক আঙিনায় মসজিদ-মন্দির। এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আসল পুলিশের হাতে ৪ ভুয়া পুলিশ আটক ভক্ত হবি তো, বোকা হবি কেন? মাদারীপুরে আড়িয়াল খাঁ’র নদী ভাঙ্গনে ৬টি ঘর,৩শ’মিটার সড়ক ও ইটভটার এক অংশ বিলীন। শারদীয় দৃর্গা পুজার নবমীর দিনে পুজা মন্ডব ছিল জন শুন্য কুষ্টিয়া দৌলতপুর মহিষকুন্ডির মাদক ব্যবসায়ীরা এখন ত্রাস: বাধা দিলেই মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি নওগাঁ দুবলহাটি নুরুলের হোমিও মাদক সেবন করে অন্ধ হয়ে মারা গেছে ১১ জন, অন্ধ হয়ে মৃত্যুর পথোযাত্রী-৪ নওগাঁ দুবলহাটি নুরুলের হোমিও মাদক সেবন করে অন্ধ হয়ে মারা গেছে ১১ জন, অন্ধ হয়ে মৃত্যুর পথোযাত্রী-৪
ঘোষণা:

দুর্দান্ত ৬ গোয়েন্দা

নাছিরুল আলম গনি (কিশোর উপন্যাস)

এপিসোড–৩

ডিবি ডিসি আতাউল হক চৌধুরী যাওয়ার পথে রাজেন্দ্রপুর থানায় উঠল। থানায় ওসি চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে থতমত খেল। স্যার বসেন স্যার। আতাউল হক চৌধুরী বসলেন না। বললেন স্কুল শিক্ষক সৈয়দ আশ্রাফুজ্জামান অপহৃত মামলা গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। স্কুল শিক্ষক সৈয়দ আশ্রাফুজ্জামান অপহৃত বিষয়ে দায়ের করা জিডির ফটো কপি সংগ্রহ করল। গাড়ীতে উঠল, মীম মুখ ভোতা করে বসে আছে। মীমের আম্মু বলল- মা, কি ব্যাপার মনখারাপ?’ মীম একটু লাজুক হাসি দিয়ে বলল ‘আম্মু এখানে আরো কয়েক দিন যদি থাকতে পারতাম, খুব মজা হতো। সীটের নিচে থলেটা বিড়বিড় করে নড়ে উঠল। আসার সময় মারুফের আম্মু মীমের জন্য থলেতে করে একটা বড় রুই, একটা কাতলা, চার পাঁচটা শিংমাছ দিয়েছেন। মাছগুলো থলেতে লাফালাফি করছে। আবারো মীম অন্যমনষ্ক হয়ে স্মৃতিচারণ করছে। কৃষ্ণচূড়া গাছ মেঠোপথ পুকুর ঘাট বাড়ির আঙ্গিনায় একপাশে একটি বড়ইগাছ আরেকটি পেয়ারাগাছ। এক তলা বাড়ি ঘরে ঢুকার বাম পাশে হাঁটু সমান ঘেরা দিয়ে গোলাপ, বেলি, গাঁদা, ফুলের বাগান সবে মিলে ছবির মতো। আতাউল হক চৌধুরী বিআরটিএ তে ঢাকা-গÑ১৭৮৫ গাড়ির মালিকানা সক্রান্তে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেল গাড়ীর মালিক হচ্ছে মনোয়ার হাকিম, পিতা হাকিম শরীফ। ঠিকানা ২৮/এ গুলশান থানা গুলশান জেলা ঢাকা। মনোয়ার হাকিমের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেল মনোয়ার হাকিম ব্যবসা সক্রান্তে কানাডা গেছে, মনোয়ার হাকিমের বাড়িতে টিএন্ডটি নাম্বারে ফোন করেন। ‘হ্যালো আস্সালামুআলাইকুম’ ‘ওয়ালাইকুম সালাম, কে বলছিলেন?’ ‘আমি গাজীপুর জেলার ডিবি ডিসি আতাউল হক চৌধুরী বলছিলাম।’

মনোয়ার হাকিমের স্ত্রী বরফের মতো জমে গেলেন। ‘কাকে চান?’ ‘মনোয়ার হাকিম সাহেবকে চেয়েছিলাম।’ ‘উনিতো বাংলাদেশে নেই।’ ‘জানি আপনি কে? আপনি ওনার কি হন?’ ‘আমি মিসেস মনোয়ার হাকিম’ ‘তাহলে আপনি বলতে পারবেন ঢাকা-গ-১৭৮৫ মাইক্রোবাস, সাদা গাড়ীটা কোথায়?’ ‘সেটাতো অনেক আগে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।’

 

 ‘কোথায় কার কাছে বিক্রয় করেছেন জানেন?’ ‘না আমি জানিনা।’ ‘আপনি এক ঘন্টার মধ্যে আপনার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করে কার কাছে বিক্রয় করেছে তার নাম ঠিকানা জানান।’ মিসেস মনোয়ার হাকিম উটকো একটা ঝামেলায় পড়ে গেলেন। কানাডা কয়েক বার ফোন করে লাইন পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে ডিবি ডিসি বার বার ফোনে বিরক্ত করছেন। লাইন পাওয়া গেছে। ‘হ্যালো’ ‘হ্যাঁ, কি খবর বল?’ ‘বলছিলাম কি সাদা মাইক্রোটা কার কাছে বিক্রয় করেছ।’ ‘কেন? ব্যাপার কি বল?’ ‘আমাকে গাজীপুর জেলার ডিবি ডিসি ফোন করেছে। বলেছেন ঐ গাড়ী দিয়ে কাকে যেন কিডন্যাপ করেছে।’ ‘তাতে আমাদের কি?’ ‘মালিককে খুঁজছে, মালিক নাকি জড়িত। গ্রেপ্তার করার জন্য।’ ‘শোন ম্যানেজারকে ফোন দিয়ে নাম ঠিকানা জেনে নিয়ে ডিবি ডিসিকে জানিয়ে দাও। না হয় আবার আমাদের ঝামেলা করবে।’ আতাউল হক চৌধুরী আবার ফোন দিলেন। ‘হ্যালো।’ ‘হ্যালো আস্সালামুআলাইকুম’ ‘আমি ডিবি ডিসি বলছিলাম খবর কি?’ ‘নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে। নাম হচ্ছে বুলবুল আকতার, পিতার নাম, আলমগীর। ঠিকানা- মোকামিয়া, থানা-ছাগলনাইয়া, জেলা-ফেনী। ডিবি ডিসি ‘ঐ ডকুমেন্ট গুলো আপনার কাছে আছে। ওখানে হলফ নামার মধ্যে ক্রেতার ছবি থাকার কথা।’ মিসেস হাকিম -‘হ্যাঁ ছবি আছে।’ ডিবি ডিসি -‘তাহলে ডকুমেন্ট গুলো রাখুন আমি এসে নিয়ে যাব।’ মিসেস হাকিম -‘ওকে।’ ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার ওসিকে ওয়ারল্যান্স করছেন ডিবি ডিসি। আতাউল হক চৌধুরী হ্যালো কন্ট্রোল রুম ফ্রি–হ্যালো কন্ট্রোল রুম ফ্রি– হ্যালো লাইন ক্লিয়ার পাওয়া গেল। হ্যালো গাজীপুর জেলার ডিবি ডিসি বলছিলাম।

‘আস্সালামুআলাইকুম স্যার।’ ‘আমাকে কুইকলি বুলবুল আকতার, পিতা মোঃ আলমগীর সাং মোকামিয়া, থানা ছাগলনাইয়া তার ভেরিফিকেশন জানান।’ ‘স্যার বুলবুল আকতার একজন মাদক ব্যাবসায়ী। তার একটি মাইক্রো আছে। ১৭৮৫ চোরাই পথে পাইকারী মাদক বহন করে থাকে। সে নির্বিঘেœ এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। একজন এমপি’র ছত্রছায়ায়। না হয় আমি তাকে গ্রেপ্তার করে এলাকা মাদক মুক্ত করতাম। ‘তার গতিবিধি এবং অবস্থান নজর রাখুন।’ ‘ওকে স্যার।’ আতাউল হক চৌধুরী আবার রাজেন্দ্রপুর থানার ওসিকে ফোন করলেন। ‘হ্যালো গাজীপুর জেলার ডিবি ডিসি বলছিলাম।’ ‘আস্সালামুআলাইকুম স্যার।’ ‘শুনুন এম কে গ্রæপের স্বত্বধীকারী মোস্তাফা কামালের ঠিকানা জানেন?’ ‘জ্বি, স্যার। ওর গ্রামের বাড়ি হচ্ছে নোয়াখালী সেনবাগ। সে নানার বাড়িতে আশ্রীতা। তার নানার বাড়ি হচ্ছে রাজেন্দ্রপুর থানার সদর ঘাট রোড মির্জা বাড়ি। মায়ের তর্কাসম্পত্তি পেয়ে সেখানে বাড়ি করে বসবাস করে। তবে সে প্রকৃত মাস্তান ও ভূমিদুস্যু।’ ‘সে এখন কোথায় অবস্থান করছে জানেন।

 

’‘স্যার সে এখন ঢাকায় গুলশান হোটেল থ্রিষ্টারে আছেন। আমাদের অলরেড়ি একটি টিম তাকে সিভিলে অনুসরণ করছে। তারাও ঢাকায় আছেন থ্রিষ্টার হোটেলে আছেন।’ মারুফের টাকার দরকার ঘরে পরিত্যক্ত আসবাব পত্র। ভাঙ্গা সিলবারের কলসি, ভাঙ্গা ভেকসি, ছিদ্র বড় টিনের বাক্স, ছেড়া জুতা, পুরোনা আমলের পিতলের পানের বাট্টা, থালা, বাসন, একটা বস্তা করে সরকার হাটে ভাংগারির দোকানে নিয়ে গেল। এক বস্তা জিনিস বিক্রয় করে মাত্র পাঁচশত কুড়ি টাকা পাওয়া গেল। টাকা গুনে দোকান থেকে বের হওয়ার সময় দোকানের বাম পাশ্বের্র কর্ণারে এক জোড়া ক্যাট্স জুতা দেখতে পেল। ক্যাটস জুতা গুলোতে জ্যাম কালির দাগ আছে। বর্তমান যুগে কেউ কালির কলম ব্যবহার করে না। করে থাকলেও খুবই কম। রাজেন্দ্রপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আশ্রাফুজ্জামান কালির কলম ছাড়া অন্য কলম ব্যাবহার করেন না। বিশেষ করে জ্যাম কালি বেশি ব্যবহার করে থাকেন। পরনে সাদা পাতলা দামী পাঞ্জাবী, সাদা পায়জামা, সাদা ক্যাট্স। মারুফ সিউর হলো জুতাগুলো হেডস্যারের, দোকনদারটা অনেক বয়স্ক। প্রায় সত্তর আশি বৎসরের কম নয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে কাজ্বা নামাজ মোটেও পড়ে না। আযান দেওয়া মাত্র মসজিদে দৌড় দেবে। দোকান বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। যে অবস্থায় আছে খোলা রেখে মসজিদে চলে যাবে। ওনার নাম দৌলত মিয়া। কিন্তু সবাই দৌলত মোল্লা বলে ডাকে। সেই থেকে মোল্লা নামে পরিচিত মারুফ -‘আংকেল এই জুতাগুলো কার থেকে কিনেছেন?’ মোল্লা -‘লাল মিয়া থেকে।’ মারুফ -‘লাল মিয়া থাকে কোথায়?’ মোল্লা -‘ষ্টেশনের বস্তিতে।’ মারুফ -‘জুতাগুলো কত বিক্রি করবেন।’ মোল্লা ‘আশি টাকা।’ মারুফ -‘দেন।’ মারুফ জুতাগুলো আলামত হিসাবে নিয়ে নেয়। বাড়ির দিকে রওনা হলো। পথ চলতে চলতে ভাবতে লাগল অপহরণকারিরা হেডস্যারকে এ অঞ্চলেই রেখেছে। বেলা অনেক হলো ক্ষিধেয় পেট জানান দিচ্ছে। ভাত খেয়ে বের হতে হবে। লাল মিয়েকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত মনে শান্তি আসবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন