বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ঘোষণা:

দৈবে পরমেশ্বরের আদেশে স্ত্রীকে হাতী কিনে দিলেন স্বামী দুলাল চন্দ্র এলাকায় মানুষের ঢল-

মোঃ শাহজাহান-সাজু লালমনিরহাট প্রতিনিধি,সময়ের পথঃ-

লালমনিরহাটের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের দেউতিরহাট রতিধর এলাকায় দৈবে পরমেশ্বরের আদেশে স্ত্রীকে ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে হাতী কিনে দিলেন স্বামী দুলাল চন্দ্র। তা দেখতে এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছে। প্রায় ১০ বছর স্ত্রী তুলশী রানী দাসী দেব দেবীর পূজা করে আসছে।
তারই এক পর্যায়ে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে স্বয়ং পরমেশ্বর ভর করে তুলশী রানী দাসীর উপর। সেই ভরে (স্বপ্নে) পরমেশ্বর বলে একটি হাতী কিনতে। সেই হাতী দিয়ে মানুষের চিকিৎসা করা, পূজা পার্বন করতে হবে। সেই দৈব বানীর কথা তুলশী রানী দাসী স্বামী দুলাল চন্দ্রকে বলে। বিপাকে পরে কৃষক দুলাল চন্দ্র। তখন দুলাল চন্দ্র ৭২ শতক জমি বিক্রয় করে ও ২ বিঘা জমি বন্দক রেখে বাড়ীর গাছ বিক্রি করে ১৭ লক্ষ টাকা জোগাড় করে সিলেট থেকে কিনে আনে একটি হাতী। দৈব প্রাপ্ত প্রীয়তমা বউয়ের ভুতের আচরে টেনশনে কৃষক দুলাল। সেই পরমেশ্বরকে (ভূত) তাড়াতে একেক পর এক চেষ্টা। পরমেশ্বরও নাছর বান্দা। তার দাবী পুরণ না হলে ছাড়ছে না কৃষক দুলাল চন্দ্রের বউ তুলসী রানীকে। তুলসী রানীর উপর ভর করে তার একের পর এক আবদার। আবদার পুরণ করতে নিঃশ হয়ে যাচ্ছে প্রায় দুলাল। পরমেশ্বরের শেষ দাবী কিনতে হবে হাতি। প্রীয়তমা বউকে রক্ষায় কৃষক দুলাল শেষ সম্বল ৭২ শতক ২ বিঘা জমি বিক্রি করে কিনে আনে হাতি। হাতি কিনে বউকে রক্ষায় উপহার এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আলোড়ন। কৃষক স্বামীর হাতি উপহার বউয়ের প্রতি বিরল ভালোবাসা দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার কৌতুহলী মানুষের ভিড়। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের সদরের পঞ্চগ্রামের রতিধর দেউতি গ্রামে। কৃষকের কথা মতো রানীকে ভালো করতে নিঃশ্ব প্রায় স্বামী দুলাল চন্দ্র।

সরেজমিনে লালমনিরহাট সদরের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রতিধর গ্রামে গেলে দেখা যায় গরিবের বাড়িতে হাতির পা দেখে হাজারো জনতার উপচে পড়া ভিড়। দুলাল চন্দ্রের বাড়িতে রয়েছে ছনের ঘড়। আছে একটি টিনের ঘড়। ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে চলে সংসার। ওই গ্রামের দুলাল চন্দ্র রায় এর সাথে তুলশী রানীর বিয়ে হয় ২০ বছর ধরে। দীর্ঘ ২০ বছর ছিলো না তাদের সংসারে বিরোধ। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ছিলো ভালোবাসা। এক পুত্র ও এক কন্যার পিতা-মাতাও হয়েছে তারা। দুলাল চন্দ্রের সাথে তুলসী রানীর বিরল ভালো বাসা দেখে হতবাগ গ্রামবাসীরা। দুলাল চন্দ্র দরিদ্র কৃষক হলেও ছিলো বউয়ের প্রতি অঘাত ভালোবাসা। দুলাল চন্দ্রের পৈতিক সূত্রে ৪ বিঘা জমি ছিলো তা দিয়ে চলে তার সংসার। তাদের সংসারে ভর করলো ভুতের আচর প্রানপ্রীয় বউ তুলসীর উপর। ভুতের আচর হলে তুলসী রানী হয়ে পড়ে অসুস্থ্য। তাকে সুস্থ্য করতে অনেক চেস্টা করেও ব্যার্থ স্বামী দুলাল চন্দ্র রায়। ভালোবাসার স্ত্রীর অসুস্থতায় টেনশনে দুলাল। তুলসীর উপর ভুতের ভর সময় ভুত করে তার কাছে নানান দাবী করে। প্রথমে দাবী করে হাসঁ জবাই করলে যাবে তুলসীকে ছেড়ে সেই ভুত। হাস জবাই করেও গেল না ভুত। তবুও হলো না। পরবর্তীতে ভুতের দাবী একটি ঘোড়া কিনতে হবে তার স্বামী দুলাল চন্দ্রকে। দরিদ্র দিনমজুর দুলাল তার প্রীয়তমা তুলসীকে রক্ষায় ৪ বিঘা জমির মধ্যে ১বিঘা জমি বিক্রি করে একটি ঘোড়া কিনে আনে। ঘোড়া কিনেও শান্তি হয়নী। তুলসী দিনে দিনে আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়লো। তাকে আবারো ভর করে এবার দাবী করে হাতি কিনে আনতে হবে। হাতি কেনা কথা বলে বেকায়দায় দুলাল চন্দ্র। ভুতের কবল থেকে বউকে রক্ষা করতে হবে দুলালের এক প্রতিজ্ঞা। অবশেষে দুলাল তার স্ত্রীকে রক্ষায় বাড়ির বাকী তিন বিঘা আবাদী জমি বিক্রি ধার-দেনা করে। বাড়ির গাছ এমনকি বসতবাড়ী বন্দক ধার-দেনা করে বউকে রক্ষায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিনে হাতি। গরীবের বাড়িতে হাতির পা। সিলেট বিভাগের মৌলভী বাজার জেলা থেকে হাতিটি ক্রয় করে। নিয়ে আসে ট্রাকে। শুক্রবার গরীবের বাড়িতে হাতির পা দেখে হাজারো দর্শকের ভিড়। কৃষক হয়ে দুলাল চন্দ্র প্রীয়তমা বউয়ের সুস্থ্যতায় হাতি উপহার বিয়ষটি সর্বত্র চলছে আলোড়ন। স্ত্রী তুলসীর প্রতি বিরল ভালোবাসা কৃষক দুলাল চন্দ্র রায়ের। হাতি কিনতে কিছু দিন দেরী হওয়ায় দিনে দিনে অসুস্থ্য হয়ে পড়তো দুলালের স্ত্রী। দুলাল চন্দ্রের স্ত্রীর প্রতি বিরল ভালোবাসা ও হাতি কিনে আনা নিয়ে দুর দুরান্ত থেকে হাতি ও দুলাল চন্দ্র-তুলসী রানীকে দেখতে ছুটে আসছে অনেকে। সিলেট মৌলিভীবাজার থেকে ভাড়া হাতি পরিবহন করা ট্রাক ২০ হাজার ভাড়া টাকা। তাও নেই তার হাতে। গাছ বিক্রি করে দেওয়া হয় ট্রাক ভাড়া। সাথে হাতি পোষ মানার জন্য সিলেট থেকে এসেছে শরীফুল নামের একজন মাউথ। হাতি চড়ানো শেখা বেতন ওই মাউথের প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা। মাউথ জানান হাতি প্রতিদিন ১০ টি গলার গাছ,৩ কেজি ভুসি,গুড় ২ কেজি,কলা ২ পির তার খাবার লাগবে। প্রতিমাসে হাতির খোরাক প্রায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। হাতিটি প্রশিক্ষনের জন্য একজন মাউথ হয়েছে রাখা। তার বেতন ১৫ হাজার টাকা। খাওয়ার জন্য মাউথের ৬ হাজার টাকা এ ছাড়াও হাতির খাওয়া ব্যয় সহ প্রতি মাসে দুলাল চন্দ্রের ব্যায় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। এ টাকা যোগান নিয়ে টেনশনে দুলাল। দুলাল জানান ভগবান দিবে। দুলাল চন্দ্র জানান সম্পতির চেয়ে আমার কাছে আমার স্ত্রীর আবদার বড়।
স্ত্রী তুলসী রানী জানান, ভগবানের দয়ায় যে হতু হাতি এসেছে এখন কিছুটা সুস্থ্য। স্বামী-স্ত্রীর বিরল ভালোবাসায় খুশি পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তিনি আরো জানান দুলাল চন্দ্র হাতির খরচ কিভাবে সংগ্রহ করবে তা নিয়ে রয়েছে তার দুচিন্তা। কিন্তু তার বউয়ের প্রতি যে এত ভালোবাসা। বউকে সুস্থ্য করতে জমি বিক্রি করে হাতি কিনলো দুলাল। কৃষক দুলাল চন্দ্র ও স্ত্রী তুলসী রানীর বিরল ভালোবাসায় খুশি এলাকাবাসী। এলাকার লোকজন জানান, হাতি দেখে তো আমরা অবাক হয়েছি। গরিবের বাড়িতে হাতির পাড়া দেকতে সবাই দলে দলে ছুটে আসছে। বউয়ের প্রতি স্বামীর বিরল ভালোবাসা দেখে খুশি এলাকার লোকজন। লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা উত্তম কুমার জানায়, হাতি আনার বিষয়টি শুনেছি। তবে এটি বিরল ঘটনা। তবে বন্য প্রাণী বাড়ীতে রাখার বিষয়ে জানত চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন