1. admin@somoyerpoth.com : somoyerpoth.com :
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন

এবার পুলিশের ওসির বাসায় শিশু গৃহকত্রী নির্যাতন-হাসপাতালে ভর্তি

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

এবার পুলিশের ওসির বাসায় শিশু গৃহকত্রী নির্যাতন-হাসপাতালে ভর্তি

মোঃ শাহ্জাহান-সাজু, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের আদিতমারীর মহিষতুলি এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় গৃহকর্ত্রী শিশু নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ওই শিশু হাসিনা খাতুনের নানি আমেনা বেগমের। খবর নিয়ে জানা যায়, আমেনা বেগম এর বাড়ী একই উপজেলার মহিষতুলি ও পুলিশ কর্মকর্তা আজাহার আলী সমুন এর বাড়ী পাশ^বর্তী দুলালী গ্রামে। চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করেন ওই কর্মকর্তা। তারই বাসায় কাজের মেয়ে গৃহকর্ত্রী ৭ বছরের শিশু হাসিনা বেগম অমানুষিক নির্যাতনের শীকার হন তার স্ত্রী ডেইজী বেগমের হাতে।

৭ বছরের মেয়ে হাসিনা খাতুন। পড়া লেখার কথা বলে নিয়ে যায় ঢাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তা। আর বাসায় নিয়ে গৃহকর্ত্রীর কাজ করাত আর কাজ করতে না পাড়ায় ওই কর্মকর্তার স্ত্রী শুরু করেন শারীরিক নির্যাতন। গৃহকর্ত্রী হাসিনার শরীরে বটি, স্বস্তা দিয়ে চোট দেয়া, খন্তা, বেত দিয়ে পেটানো থেকে শুরু করে হাতে যা পেত তা দিয়েই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করতে করতে পুরো শরীর যেন কাটা দাগে ছেয়ে গেছে। এরপর কান্নাকাটি করলে জোরপূর্বক নিয়ে ঘরে বন্দি করে রাখতেন ডেইজী। কাজের মেয়ে হাসিনা তখন বাঁচাও-বাঁচাও চিৎকার করছিল আর কাঁদছিল। তবুও মন গলেনি পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী ডেইজীর।

ওসি আজাহার আলী সুমনের স্ত্রী ডেইজী বেগমও এক শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনি ঢাকা শ্যামলীর একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। এক বছর আগে লোক বড় বোন মানিকজান বেগমের সহায়তায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের মহিষতুলি গ্রাম থেকে কাজের মেয়ে হাসিনাকে নিয়ে এসেছিলেন এসআই আজাহার (বর্তমানে ওসি)। দীর্ঘ এক বছর হতে শারীরিক নির্যাতন করত বলে জানায় ৭ বছরের শিশু হাসিনা। পরবর্তীতে শিশুটি শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য হলে গত রোববার বিকেলে লালমনিরহাটের আদিতমারীর ফলিমারী গ্রামে নিয়ে আসানে ওই ওসির ড্রাইভার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম। পরবর্তীতে এ ড্রাইভারের কাছ হতে লিখিত একটি পত্র ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। যাহাতে উল্লেখ করেন আপনার মেয়েকে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেভাবেই ফেরৎ দেয়া হল।
তবে ওই ওসির বড় বোন মানিকজান বেগম বাচ্চার গায়ে প্রচুর পরিমানে কাটা ফাছা ও ঘা দেখতে পেয়ে স্থানীয় মেম্বার ও উপস্থিত লোকজনকে বলেন আমি ভাল মেয়ে তার নানির কাছ হতে নিয়ে দিছি আমার ভাইকে। আমি নিখুত মেয়ে দিছি নিখুত মেয়ে চাই। বাচ্চার শরীরে এত কাটা ফাছার দাগ কেন? আমি আমার ভাইয়ের বিচার চাই। একটা অবুঝ শিশুকে নিয়ে গিয়ে পড়া লেখা করাবে, একই বয়সের তার ছেলের সাথে খেলাধুলা করবে বলে নিয়ে গিয়ে বাড়ির সব ধোয়া-মোছা, রান্নার কাজ করিয়েছে। আর কাজ করতে না পাড়ায় তাকে এভাবে অমানুষিক নির্যাতন করে বাচ্চার পুরো শরীর মাইরে শেষ করে দিছে। আমি বাচ্চাকে দেখতে চাইলে বা ফোন দিলে আমার ভাই ও তার বউ আমাকে বাচ্চার সাথে কথা বলতে দিত না। বলে যে ভাল আছে। আমি যে বাচ্চাকে দেখতে যাব তার বাসার ঠিকানা পর্যন্ত আমাকে দেয়নি আমার ভাই আজাহার সুমন। আজ (রবিবার-২৯-০৮-২১) ওই অসুস্থ্য বাচ্চাকে নিয়ে আসে আমার কাছে। তার ড্রাইভারকে দিয়ে আমার বাড়িতে নিয়ে আসলে আমি ড্রাইভারকে আটক করি মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে জানাই। পরে তারা এসে ড্রাইভারের কাছে লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেয়।

আমি আমার ভাই আজাহার ও বউ ডেইজীর বিচার চাই। আমি যদি মরেও যাই তার বিচার চাই। এভাবে কোন বাচ্চাকে নির্যাতন করে কেউ?

মামলার অভিযোগে জানাযায়, একই উপজেলার দুলালী এলাকার মোঃ হোসেন আলীর পুত্র আজাহার আলী সুমন চাকুরীর সুবাদে ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থান করায় তাদের বাচ্চার সাথে পড়া লেখা ও খেলা ধুলাা করার জন্য ৭ বছরের শিশু হাসিনা খাতুনকে তার নানী আমানা বেগমের কাছ থেকে মানিক জান বেগম শিশুটিকে তার ভাই আজাহার আলী সুমনকে নিয়ে দিলে তিনি ঢাকায় তার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর শিশুটির পরিবারের সাথে আর কোন যোগাযোগ করতে না দিয়ে বাসার সমস্ত কাজ করানো শুরু করেন। আর কাজ করতে না পারলে তার উপর নেমে আসত অমানুষিক নির্যাতন। এতে শিশুটি অসুস্থ্য হয়ে পড়লেও কোন যোগাযোগ করতে পারত না। শিশুটিকে দেখতে যাওয়ার জন্য বোন ও নানী ঢাকায় যেতে চাইলেও তারা দীর্ঘ একটি বছর করোনা মহামারির কথা বলে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় পরিবারের সাথে।

অভিযোগে আরও জানা যায়, গত ২৯ আগষ্ট রোববার দুপুরে অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে আজাহারের ব্যক্তিগত ড্রাইভারকে রিয়াজুলকে দিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠায় দেয়। পরে শিশুটির পুরো শরীরে কাটা ছিলা, ফাটা দেখতে পেয়ে ড্রাইভারকে বলে এসব কিসের দাগ। প্রতিত্তোরে ড্রাইভার কিছুই জানেন না বলে জানায়। পরে এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় শিশুটিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। এ বিষয়ে আদিতমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি মামলা দিলেও আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম মামলাটিতে ঠিকানা উল্লেখ না করায় ফেরৎ দেন।
এ বিষয়ে শিশু হাসিনা খাতুন বলেন, আমাকে নিয়ে যাওয়ার পর হতে বাড়ির সব কাজ করাতো। আর কাজ করতে না পারলে আমাকে বেত দিয়ে, স্বস্তাসহ হাতে যা পেত তখন তা দিয়েই মারত। আমার মাথায় মাইর দিয়ে মাথা ফেটে গেছিল। কোন ওষুধ না দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখত কোন মানুষ যাতে না শুনে। প্রতিদিন আমাকে মারত। আমি অনেক কান্না করছি। তখন আরও মারে।

শিশুটির মা রহিমা বেগম বলেন, আমার ভাল মেয়ে নিয়ে গিয়ে মারতে মারতে শেষ করে দিছে। বড় বড় ভারী কাজ করাইছে। আর সে কাজ করতে না পরলে ডেইজী বেগম আজাহারের বউ হাতে যা থাকত তা দিয়েই পেটাতো। আমার মেয়ের পুরো শরীরে কাটা দাগ। এমন কোন জায়গা নাই মাইরের দাগ নাই। আমি এর বিচার চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, এটি একটি অমানবিক আচরণ করেছে শিশুটির সাথে। তার বাচ্চার সাথে খেলাধুলা করবে বলে নিয়ে যায়। তারও বাচ্চার বয়স ৭ বছর হাসিনারও বয়স ৭ বছর। তাহলে এতটুকু একটি শিশুকে দিয়ে বাসার সব কাজ করানো কতটা যুক্তি সংগত? আর কাজ করতে না পারলে প্রচুর মারত। তার শরীরের সমস্ত জায়গায় মারের দাগ আমরা লক্ষ করছি। এর অবশ্যই বিচার হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত