1. admin@somoyerpoth.com : somoyerpoth.com :
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
কুষ্টিয়ায় শত-শত কর্মী নিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে বিতর্কিত নৌকা প্রার্থীর মনোনয়ন জমা কুষ্টিয়ায় ১০ নং উজানগ্রাম ইউপি আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত তুমুল ভোট-যুদ্ধের আভাস সদরের মোগলবাসা ইউনিয়নের নির্বাচনে। হরিণাকুণ্ডুতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম জেলায় বাল্যবিয়ে বেড়েছে ৭৪ শতাংশ হরিণাকুণ্ডুতে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হরিণাকুণ্ডুতে উপজেলা পরিষদ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত প্রচার-প্রচারণায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য প্রার্থী শ্রীমতি মাধবী রাণী। সিলেটে অবৈধ দখল ও বজ্যের চাপে বিপর্যস্ত সুরমা নদী নিখোঁজের চার দিন পর ডোবা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার।

ছেলেকে বাঁচাতে রিকশাচালক পিতার আকুল আবেদন বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এমরান

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

ছেলেকে বাঁচাতে রিকশাচালক পিতার আকুল আবেদন
বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এমরান

রেজওয়ান আহমদ :: অসুস্থ্য ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন সিলেট নগরীর শামীমাবাদ ৮নং রোড এলাকার ভুড়া মিয়ার কলোনীর বাসিন্দা রিকশাচালক সুরুজ মিয়া। দীর্ঘদিন থেকে রিকশা চালিয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে কোনো রকমে অভাব অনটনের মধ্য থেকেও সুখে চলছিল সুরুজ মিয়ার সংসার। রিকশাচালক বাবাকে সহযোগিতা করতে কিশোর এমরান হোসেন যোগালি হিসেবে টাইলসের কাজ শুরু করে। প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকা রোজগার করে বাবার হাতে তুলে দিতো এমরান। এমরান রোজগার করায় রিকশাচালক বাবার সংসার চালাতে কষ্ট হতো না, ভালোই চলছিল তাঁদের পরিবার। হঠাৎ করে সুখের সংসারে নেমে এসেছে অন্ধকার। গত ১৪ই আগস্ট ঘর থেকে বের হয় এমরান হোসেন, বাসায় আর ফিরেনি। ছেলে বাসায় না ফেরায় চিন্তায় পড়ে যান বাবা-মা, ছেলের খোঁজখবর নিতে থাকেন তাঁরা। সুরুজ মিয়ার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে পরিচিত একজন জানান এমরানকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা গুরুতর, ছেলেকে দেখতে ছুটে যান সুরুজ মিয়া। হাসপাতালে ছেলেকে দেখে আকাশ ভেঙ্গে পড়ে যেন তাঁর মাথায়। ছেলেকে বাঁচাতে ডাক্তারের পিছনে ছুটতে থাকেন সুরুজ মিয়া। ২দিন ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর এমরানকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। রিক্সাচালক বাবা ছেলেক বাঁচাতে গ্রামের বাড়ি গিয়ে ভিটে মাঠি বিক্রি করে দেন। ভিটে মাটি বিক্রি করে এমরানকে নিয়ে ছুটে যান ঢাকায়। ১মাস চিকিৎসা করানোর পর শেষ হয়ে যায় টাকা। কিন্তু ছেলে ভালো হয়নি। টাকা না থাকায় বন্ধ হয়ে যায় এমরানের চিকিৎসা। ঢাকা থেকে সিলেটের বাসায় নিয়ে আসেন সুরুজ মিয়া। বর্তমানে বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এমরান।

সরেজমিনে গিয়ে গতকাল রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শামীমাবাদা এলাকায় এমরানের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ফ্লোরের মধ্যে পড়ে রয়েছে এমরান, পাশে বসে রয়েছেন বাবা-মা। ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আর কাদচ্ছেন তাঁর মা। এমরানও হাউমাউ করে শুধু কাদচ্ছে, কথা বলতেও পারছে না।

রিকশাচালক সুরুজ মিয়ার সাথে আলাপ হলে তিনি জানান, গত ১৪ই আগস্ট বিকালে ২০ টাকা দেওয়ার জন্য বলে এমরান। ২০ টাকা না থাকায় ১০ টাকা দেই, ১০ টাকা নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায় আর ঘরে ফিরেনি। ১৫ আগস্ট দুপুরে আমার পরিচিত একজন মোবাইলে ফোন দিয়ে জানান এমরান হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতালে গিয়ে দেখি বারান্দায় ফ্লোরের মধ্যে পড়ে রয়েছে এমরান। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। হাসপাতালে ২দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ১মাস চিকিৎসা করানোর পরও ভালো হয়নি। ভিটে মাঠি বিক্রি করে যা টাকা পেয়েছিলাম ছেলের চিকিৎসা করাতে শেষ হয়ে গেছে। টাকা না থাকায় হাসপাতাল ছেড়ে বাসা নিয়ে আসি। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরো জানান, ১৪ আগস্ট রাতে নগরীর মির্জাজাঙ্গাল আয়শা ক্লিনিক সংলগ্ন নির্মাধীন ৫তলা ভবনের ভিতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এমরানকে উদ্বার করে কে বা কারা হাসপাতালে রেখে আসে। পরে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির একদল পুলিশ সুরুজ মিয়াকে নিয়ে ঐই ভবনে গিয়ে এমরানের জুতা উদ্বার করে। এরপর আর কোনো যোগাযোগ করেনি পুলিশ। কিভাবে এমরান আহত হলো তাও উদঘাটন হয়নি। এব্যাপারে থানায়ও মামলা করেনি তাঁর পরিবার। ছেলের চিকিৎসা করাতে নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন করেছে তাঁর পরিবার। এমরানকে সহযোগিতা করতে চাইলে (০১৭০৩-২০৩৭৭১) এই নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত