1. admin@somoyerpoth.com : somoyerpoth.com :
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
মাটিরাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম সড়কের শুভ উদ্বোধন। সিলেটের বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য দিলেন না আরিফ-মুক্তাদির লায়ন মোঃ নূরল ইসলাম, নড়াইল জেলা ও লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর মাজার যিয়ারত করেন। দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন উজানগ্রাম ইউপি’র কান্ডারী সানোয়ার মোল্লা বিআরবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মজিবর রহমানকে সংবর্ধনা প্রদান সিলেট জেলার ৩য় ধাপের ১৬ টি ইউপির নির্বাচনী ফলাফল প্রতীক বরাদ্দের আগেই ইচ্ছে মত প্রচারণা সিলেটে পরকিয়ার জেরে হত্যার অভিযোগে নারীসহ দুজনের মৃত্যুদন্ড আসসালামু আলাইকুম প্রানপ্রিয় সহযোদ্ধা সহকর্মীদের সারথি শুভাকাঙ্ক্ষী পর্যটন উদ্যোক্তা হাজী দেলোয়ারসহ পরিবারের সদস্যদের হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ

ফুলবাড়ী উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য,,

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

ফুলবাড়ী উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য,,

সোহেল রানা,কুড়িগ্রামঃ জেলা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের উত্তর জনপদের কুড়িগ্রাম জেলাধীন ফুলবাড়ী উপজেলা। এই উপজেলার ইতিহাস আছে,ঐতিহ্য আছে,আছে নিজস্ব সক্রিয়তা ও বৈশিষ্ট্য।
ধরলা নদী পরিবেষ্টিত ও ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা ফুলবাড়ী। ফুলবাড়ী উপজেলা একসময় কুচবিহার মহারাজা জগদ্বীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুর পূর্বভাগ চাকলার অন্তর্গত ছিল। মহারাজা ১৩২০ বঙ্গাব্দে পূর্বভাগ চাকলা পরিদর্শনে আসার পথে ধরলার নদীর উভয় তীরে কাশ ফুল দেখে মুগ্ধ হয়ে এর নামকরণ করে ফুলবাড়ী।

একটি সূত্র থেকে জানা যায় যে ধরলা নদীর পূর্ব পাড়ে গোটা পূর্বভাগ পরগনা বা চাকলা ছিল ফুলে ফুলে ভরা পথের দুধারে,জঙ্গলে, ঝোপেঝাড়ে,বাড়ির আঙ্গিনায় ছিল ফুলে ভরা, অসংখ্য বনফুলের মৌ মৌ গন্ধে মন প্রাণ ভরে যেত।

ফুলবাড়ী থানার মধ্য দিয়ে এক কালে প্রবাহিত হতো নীলকমল নদী,নদীর দু- তীরে ছিল অসংখ্য ফুলের সমারোহ। ফুলবাড়ী জমিদারের কাছারি বাড়ি সামনেও এক বিশাল ফুলের বাগান,সেখানে ছিল বিভিন্ন ফুলের সমাহার এই ফুলের প্রীতি ও ফুলের সমারোহ থেকে এ থানার নাম হয় ফুলবাড়ী। পূর্বভাগ পরগনার সর্বশেষ জমিদার কে ছিলেন তা আজও সঠিক ভাবে জানা যায়নি তবে ফুলবাড়ী কাছারি বাড়ি তা আজও স্মৃতি বহন করছে। তার কাছারি বাড়ির সামনে এক মনোরম ফুলের বাগান ছিল ওই বিলুপ্ত ফুলবাগানের কিছু নমুনা ফুল এখনো বিদ্যমান রয়েছে। কামিনীও গৌরি চাপা’র প্রাচীন গাছগুলি কালের সাক্ষী হিসেবে এখনো বাতাসে গন্ধ ছাড়িয়ে দিয়ে বলছে আমার নাম ফুলবাড়ী ।

পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৪ সালে ৬ ই মে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনে ফুলবাড়ী থানা প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

ফুলবাড়ী উপজেলার আয়তন ১৫৬.৭০ বর্গ কিলোমিটার উপজেলার আবাদি জমির পরিমাণ ১৩৫৪২ হেক্টর ,উপজেলা রয়েছে উল্লেখযোগ্য ধরলা নদী এছাড়া বানিদাহ,
নীলকমল,গিরিরাই,ভগোবা নদী,ফুলবাড়ীর বৈচিত্রতা বৃদ্ধি করেছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার পড়ে রয়েছে ভারত। প্রায় ৩৬ কিলোমিটার ফুলবাড়ী সঙ্গে রয়েছে ভারতের সংযোগ,বর্তমান ফুলবাড়ী উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান ফুল সাগর,প্রেম সাগর লেক,শেখ হাসিনার ধরলা সেতু,ধরলানদী,নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি ও বিলুপ্ত সিটমহল দাসিয়ারছড়া।

আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ফুলবাড়ী উপজেলার সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭ অনুযায়ী শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৮.১১%; পুরুষ ৪৫.৪৪%, মহিলা ৩০.৭৪%। জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৭৪.২৮%, অকৃষি শ্রমিক ৫.১৮%, শিল্প ০.২৫%, ব্যবসা ৯.৩১%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ১.৭০%, চাকরি ৩.৮১%, নির্মাণ ০.৬৫%, ধর্মীয় সেবা ০.১৮%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.১৭% এবং অন্যান্য ৪.৪৭%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫৭.৯৫%, ভূমিহীন ৪২.০৫%, শহরে ৪৯.৫৭% এবং গ্রামে ৫৮.৬৬% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।
জনসংখ্যা ১৪০৩৯২; পুরুষ ৭০৬২৭, মহিলা ৬৯৭৬৫, মুসলিম ১২৫০৩৩, হিন্দু ১৫২৪৫ এবং অন্যান্য ১১৪,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ২৬১, মন্দির ১১।মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ পাকসেনাদের সঙ্গে লড়াইয়ে মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান (ইপিআর) শহীদ হন।
১৯৮৩ সালের ২ই জুলাই উপজেলা কার্যক্রম শুরু করে বর্তমানে নাওডাঙ্গা, শিমুলবাড়ী,ফুলবাড়ী সদর,বড়ভিটা,ভাঙ্গামোড় ও কাশিপুর এই ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ফুলবাড়ী উপজেলা।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে সাত কিলোমিটার দূরে রয়েছে নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের অন্যতম দর্শনীয় স্থান নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি ।
ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে’বাহাদুর’খেতাব প্রাপ্ত জমিদার প্রমদরঞ্জন বক্সী নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি ও বংশের প্রতিষ্ঠাতা।জমিদার প্রমদরঞ্জন বক্সীর তিন ছেলে এবং এক মেয়ে ছিল। তার বড় ছেলে আইন ব্যবসা এবং ছোট ছেলে প্রকৌশলী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেও তার মেজো ছেলে পড়ালেখায় ভীষণ কাঁচা ছিলেন। ফলস্বরূপ, জমিদারি সামলানোর দায়িত্ব তিনি মেজো ছেলেকেই দেন। মেজো ছেলে বিশ্বেশ্বর প্রসাদ বক্সী জমিদারি সামলাতে শুরু করেন। আর অন্যরা কর্মজীবন নিয়ে ব্যস্ততা ব্যস্ত থাকেন।তাদের জমিদারী ছিল বর্তমান কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বিদ্যাবাগীশ,
শিমুলবাড়ী,তালুক শিমুলবাড়ী,কবিরমামুন সহ বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ।

এছাড়াও তাদের পাঙ্গা নামক এলাকায় আরেকটি জমিদারি ছিল,যা শিবপ্রসাদ নামে একজন দেখাশোনা করতো।জমিদার বিশ্বেশ্বর প্রসাদ বক্সীর দুই ভাই ভারতের কুচবিহার রাজ্যে একটি বাড়ি ক্রয় করে সেখানে তাদের বাবা প্রমোরঞ্জন বকসী কে নিয়ে চলে গেলে, শেষ জমিদার বিশ্বেশ্বর প্রসাদ বক্সী জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এখানে ছিলেন জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে তিনিও ভাইদের কাছে চলে যান আর এভাবেই ইতি ঘটে জমিদার বংশের জমিদারি।
এখন জমিদারবাড়িতে গড়ে উঠেছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়,উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। জমিদারির সময় শ্রীকৃষ্ণের পূর্ণ জন্মতিথিতে দোল পূর্ণিমায় বাড়ির সামনে ফাঁকা মাঠে দোলের মেলা বসত,সে সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে দোল সভারিরা পাহাড়ি সাজে সজ্জিত হয়ে সিংহাসন নিয়ে এই মেলায় অংশগ্রহণ করত‌,এ সময় ফুর্তিতে মেতে উঠত দোলযাত্রার মাঠ। প্রথা অনুযায়ী সেই দোলযাত্রা এখনো চলছে।

শিমুলবাড়ি ইউনিয়ন
ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন। এ অঞ্চলে শিমুল গাছ বেশি থাকার কারণে এ অঞ্চলের নাম রাখা হয়েছে শিমুলবাড়ী।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের আকর্ষণ হলো ধরলা নদী।

কারন এই নদীর উপরে নির্মিত হয়েছে ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু যা শেখ হাসিনার ধরলা সেতু নামে নামকরণ করা হয়।
প্রতিবছর এ নদীতেই সনাতন ধর্মালম্বীদের গঙ্গার স্নান ও সেতুর পাশে বসতো দশহারার মেলা ।
বর্তমানে ফুলবাড়ী উপজেলার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই সেতুটি। বিকেল গড়ালে দেখা মেলে মানুষের আনাগোনা। বিশেষ করে সরকারি ছুটি,বিভিন্ন দিবস,ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এ সেতু হয়ে উঠে প্রাণবন্ত। সেতুটি মানুষে মানুষে ভরে যায়,দু-পার‌।

এছাড়াও বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শকরা ছুটে আসে প্রকৃতি প্রেমিকেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত