1. admin@somoyerpoth.com : somoyerpoth.com :
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
মাটিরাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম সড়কের শুভ উদ্বোধন। সিলেটের বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য দিলেন না আরিফ-মুক্তাদির লায়ন মোঃ নূরল ইসলাম, নড়াইল জেলা ও লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর মাজার যিয়ারত করেন। দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন উজানগ্রাম ইউপি’র কান্ডারী সানোয়ার মোল্লা বিআরবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মজিবর রহমানকে সংবর্ধনা প্রদান সিলেট জেলার ৩য় ধাপের ১৬ টি ইউপির নির্বাচনী ফলাফল প্রতীক বরাদ্দের আগেই ইচ্ছে মত প্রচারণা সিলেটে পরকিয়ার জেরে হত্যার অভিযোগে নারীসহ দুজনের মৃত্যুদন্ড আসসালামু আলাইকুম প্রানপ্রিয় সহযোদ্ধা সহকর্মীদের সারথি শুভাকাঙ্ক্ষী পর্যটন উদ্যোক্তা হাজী দেলোয়ারসহ পরিবারের সদস্যদের হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ

তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও নিজে হাঁকান দু’টি প্রাইভেট কার।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও নিজে হাঁকান দু’টি প্রাইভেট কার (নং-চট্ট-মেট্টো-গ-১২-৫৯৬২) এবং (চট্ট-মেট্টো-গ-১১৫৬৩২)। এ ছাড়া নোহাহ গাড়ি চট্টমেট্টো-চ-৫১-০৭২৫, চট্ট-মেট্টো-অ-০২-০১২৬, ট্রাক চট্ট-মেট্টো-ট-১১-৯১৬৭, প্রাইভেটকার চট্ট-মেট্টো-চ-১১-২৭২২ নম্বরের গাড়িগুলো ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। তার বেনামী সম্পদের মধ্যে রয়েছে ২টি ব্রিক ফিল্ড। এর আনুমানিক মূল্য ৭ কোটি টাকা। তার বন্ধু বিদেশ-ফেরত মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানকে দিয়ে ব্রিকফিল্ড দু’টি পরিচালনা করেন।
স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা ইয়াসমিনের নামে রয়েছে ‘ফ্রেন্ডস ফিশ কর্ণার’। ১০ নং সমবায় মার্কেট, ইকবাল রোড, ফিশারী ঘাট চট্টগ্রামের ঠিকানায় অবিস্থত এই প্রতিষ্ঠানের আওতায় রয়েছে ৩টি ফিশিং ট্রলার। যার আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন দেশে মাছ রফতানি করা হয়। পাইরোল নিজ গ্রামে বাড়ির আশপাশে রয়েছে ৫টি পুকুর। এসবের মূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা।
গত ২৬ আগস্ট ২০২০ তারিখে চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম জিপিও তে ভুয়া বই বানিয়ে ৩০ কোটি টাকা সহ পোস্ট মাস্টার নূর মোহাম্মদ এবং পোস্টাল অপারেটর সারওয়ার আলম সরাসরি হাতে নাতে আটক হলেও মূল আসামি রয়ে গেছে অধরা। ওই সময় তাদেরকে কোন প্রকার রিমান্ডে নেওয়া হয় নাই। উক্ত অর্থ সাইফুলের গাড়িতেই পাচার হয় অর্থ। প্রায় এক বছর দুই মাস পার হলেও এর কোনো সুরাহা মেলেনি। জাস্ট শুধু নামে মাত্র উক্ত দুজন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করে চট্টগ্রাম জিপিও। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম মোড়ল। এদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ সাইফুলের ফুফাতো ভাই। সারওয়ার আলমকেও চাকরি দিয়েছেন সাইফুল। তার অতিঘনিষ্ট দু’জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খুলে ভুয়া জমা দেখিয়ে সেটি কয়েকশত গুণ বাড়িয়ে উত্তোলন করছেন টাকা।
দুদক সূত্র জানায়, মামলার তদন্তে ১২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম জিপিওতে ‘সাইফুলের লোক’ হিসেবে পরিচিত। সাইফুল ইসলামের তদবিরে নূর মোহাম্মদকে সঞ্চয় শাখায় পোস্টিং দেয়া হয়। দায়িত্বে বসার এক বছরের মাথায় জালিয়াতির মাধ্যমে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ধরা পড়ে। গ্রাহকদের মধ্যে রায়ফা হোসেনের ১৬ লাখ, লাকী আক্তারের ১৪ লাখ এবং সাকী আক্তারের ১৫ লাখ টাকা ডাক বিভাগের নথিতে না তুলে আত্মসাৎ করেন নূর মোহাম্মদ ও অপারেটর সরওয়ার আলম খান।
এর আগেও চট্টগ্রাম জিপিও’র সঞ্চয় শাখা থেকে আরো অন্তত: ৫০ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়। ওই সময় টিআই (টাউন ইন্সপেক্টর) ছিলেন সাইফুল। তার অধীনস্থ আকতার আলী (এসবি-৭০০২২৪), লাকি আকতার (এসবি-৬৮৬৬৩৫), নূর মোহাম্মদ (এসবি-৬৬৮৭৪৬), আয়েশা বেগম (এসবি-৬৪২৫৭৫), রিহাবউদ্দিন (এসবি-৬৯০৪০৬), মুক্তা বেগম (এসবি-৬৮৯৭৩১), মুক্তা বেগম (এসবি-৭০০২৪৭), আরবার সালেনূর (এসবি-৬৬৬০১৩), লাকি আকতার (এসবি-৬৯৬২৫১), রায়ফা হোসেন (এসবি-৬৯৯৩৫০) এবং মো. খোকনের (এসবি-২৫৪৭৪৭) অ্যাকাউন্টের বিপরীতে জালিয়াতির মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। সাইফুলের চাকরিচ্যুত ড্রাইভারের নাম খোকন। আগে তার নামে একটি ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি-২৫৪৭৪৭) করা হয়। ২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এই অ্যাকাউন্টে জমা দেখানো হয় ১০০০ টাকা। ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ জমা দেখানো হয় ৫,০০,০০০ লাখ টাকা। ২০২০সালের ২৩ মার্চ এই অ্যাকাউন্ট থেকে মুনাফাসহ উত্তোলন করা হয় ৬ লাখ ৬৯ হাজার ২শ’ টাকা।
ড্রাইভারসহ বিভিন্ন জনের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ভুয়া জমা দেখিয়ে তিনি এভাবে অর্থ তুলে নেন। ওই সময় অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি হলেও সাইফুল থেকে গেছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। সর্বশেষ ৩০ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়ার পরও একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি হয়। রহস্যজনক কারণে এ কমিটিও প্রতিবেদন দাখিলে কালক্ষেপণ করছে।
দেড়শ কোটি টাকার মালিক দুর্নীতিবাজ কর্মচারী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী সম্পর্কে চট্টগ্রাম সিনিয়র পোস্ট মাস্টার ড. নিজাম উদ্দিনের মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমি মোবাইলে কিছু বলতে পারব না এটা বলে লাইন কেটে দেন। অন্যদিকে তার সম্পর্কে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের পোস্ট মাস্টার জেনারেল ড.জামাল পাশার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন তার বিষয়ে তদন্ত চলছে, এর বাইরে আমি কিছু বলতে পারব না বলে তিনিও লাইন কেটে দেন।
অপরদিকে ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তার দুর্নীতির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এটা নিয়ে তদন্ত চলছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত উক্ত তদন্ত রিপোর্ট আমাদের হাতে এসে পৌছায় নাই। তিনি এটাও বলেন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী সঙ্গে আরো অনেক বড় বড় কর্মকর্তারা জড়িত আছে, এজন্যই তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হতে বিলম্ব হচ্ছে। অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে দুইজন গ্রেপ্তার হলেও এর পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী মহল। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি অচিরেই যেন এটার উদঘাটন করতে পারি।
দুর্নীতিবাজ সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকের নাম শুনেই বলেন, আমি ফোনে কিছু বলতে পারব না এই বলে লাইন কেটে দেন। সর্বশেষ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম মোড়ল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। এটি একটি বড় চক্র। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত