1. admin@somoyerpoth.com : somoyerpoth.com :
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
মাটিরাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম সড়কের শুভ উদ্বোধন। সিলেটের বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য দিলেন না আরিফ-মুক্তাদির লায়ন মোঃ নূরল ইসলাম, নড়াইল জেলা ও লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর মাজার যিয়ারত করেন। দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন উজানগ্রাম ইউপি’র কান্ডারী সানোয়ার মোল্লা বিআরবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মজিবর রহমানকে সংবর্ধনা প্রদান সিলেট জেলার ৩য় ধাপের ১৬ টি ইউপির নির্বাচনী ফলাফল প্রতীক বরাদ্দের আগেই ইচ্ছে মত প্রচারণা সিলেটে পরকিয়ার জেরে হত্যার অভিযোগে নারীসহ দুজনের মৃত্যুদন্ড আসসালামু আলাইকুম প্রানপ্রিয় সহযোদ্ধা সহকর্মীদের সারথি শুভাকাঙ্ক্ষী পর্যটন উদ্যোক্তা হাজী দেলোয়ারসহ পরিবারের সদস্যদের হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ

সুনামগঞ্জের ২ উপজেলায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপরীতে ২২ বিদ্রোহী প্রার্থী

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের ২ উপজেলায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপরীতে ২২ বিদ্রোহী প্রার্থী

সিলেট প্রতিনিধিঃ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে সুনামগঞ্জের সদর উপজেলা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৮ নভেম্বর।

দুই উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে সদস্য, মহিলা সদস্য ও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সহ্রাধিক প্রার্থী। স্থানীয় এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়া বাড়তি আমেজ বিরাজ করছে ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে। প্রধান বিরোধীদল বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মূল প্রতিপক্ষ বিদ্রোহীরা। দুই উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ২২ জন।

ছাতক দোয়ারায় বিদ্রোহীদের কাছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের দরাসায়ি হওয়ার পর এখন দুঃচিন্তার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে সুনামগঞ্জ সদর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের। তবে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের বিজয়ে বাঁধা হবে না বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা। বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিঃস্কার করার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬৩ জন প্রার্থী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত ৯টি ইউনিয়নে দলের মনোনীত প্রার্থী ছাড়াও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদধারীগণও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন আওয়ামী বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। ৭ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন অন্তত ১০ জন প্রার্থী।

মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ মনোনীত বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিন (নৌকা)। এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম (ঘোড়া)। দল মনোনয়ন না দেয়ায় দ্বিতীয়বারের ন্যায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে বিগত ইউনিয়নে পরিষদ নির্বাচনে ন্যায় ফের আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান মোকছুদ আলী (নৌকা) বিপক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদির (আনারস)।
সুরাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস ছত্তারের (নৌকা) বিপক্ষে লড়ছেন দুই আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী। সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম (আনারস) ও প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ও সুরমা ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমীর হোসেন রেজা (রেজা) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

গৌড়ারং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছালমা আক্তার চৌধুরী (নৌকা)। এই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সরওয়ার আহমদ (মোটরসাইকেল) এবং চম্পা বেগম (চশমা) নামে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। দুজনই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত।

কুরবাননগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামস উদ্দিনের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল নুর (আনারস) ও কোহিনুর আলম (টেবিল ফ্যান)।
মোহনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সিতেষ তালুকদার মঞ্জু‘র মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মঈনুল হক মাইনুললা (মোটর সাইকেল)।

কাঠইর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট বুরহান উদ্দিন। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল মতিন (ঘোড়া)।
এদিকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৮ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৪৩ জন প্রার্থী। উপজেলার সকল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মূল প্রতিপক্ষ দলীয় পদপদবীদারী নেতাসহ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন এমন অন্তত ১২ জন প্রার্থী।

উপজেলার শিমূলবাঁক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিজানুর রহমান জিতুকে (নৌকা) চ্যালেঞ্জ করে ভোটে আছেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ মিয়া (চশমা) ও শাহীনুর রহমান (আনারস)।
জয়কলস ইউনিয়নে দলের মনোনীত মো. মাসুদ মিয়ার (নৌকা) সঙ্গে বিদ্রোহী হিসাবে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাছিত সুজন (ঘোড়া), উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রাজা মিয়া (টেবিল ফ্যান) ও যুবলীগ নেতা হাছান মাহমুদ তারেক (মোটর সাইকেল)।

পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জগলুল হায়দারের (নৌকা) সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রীর চত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠে সক্রিয় নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক (আনারস)। তিনি এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে দলের মনোনীত প্রার্থী রাশিকুল ইসলামের (নৌকা) সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন (মোটর সাইকেল) ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন (টেবিল ফ্যান)।

দরগাপাশা ইউনিয়নে দলের মনোনীত প্রার্থী মনির উদ্দিনের (নৌকা) সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়া মাছুদুল হাসান দুলন (আনারস)।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম (নৌকা)। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন রুবেল মিয়া (আনারস)। তিনি এবার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা আগপর্যন্ত আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্বাচনী প্রচারণা করে আসছিলেন তিনি।

পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট দেবাংশু শেখর দাশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা সফিকুল ইসলাম (মোটর সাইকেল) এবং পাথারিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামছুল ইসলাম রাজা (নৌকা) এর সাথে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম (ঘোড়া) ।

নির্বাচনীয় মাঠে আওয়ামী লীগ বিপক্ষে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর সরব লড়াইয়ে বিপাকে রয়েছেন দলের মনোনীত প্রার্থীরা। প্রচার প্রচারণা থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানামূখী প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনী বৈতরনী পার হতে চাচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মকসেদ আলী বলেন,

জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মকসেদ আলী বলেন, আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করছি। আমার বিপক্ষে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি এই নিয়ে দুইবার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আমার বিরোধীতা করছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার মূখ্য বিষয় দলের বিরোধীতা করা। আমি এ বিষয়ে একাধিকবার দলের সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি।

দলের নেতাকর্মী হয়ে দলের বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন আমার তাদের তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছি। দল তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এন এনামুল কবির ইমন বলেন,ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যারা বিদ্রোহী হয়েছেন তাদের দল থেবে বহিঃস্কারের কথা জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত